দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার বিকালে পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরে নিহত সিআরপিএফ কর্মীদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাল আমেরিকা। সেই সঙ্গে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে, পাকিস্তানে যে জঙ্গিরা ঘাঁটি বানিয়েছে, তারাই আছে এই হামলার পিছনে। পাকিস্তানকে বলা হয়েছে, অবিলম্বে জঙ্গিদের মদত দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
https://twitter.com/USAndIndia/status/1096249147814891520
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমেরিকা কঠোরতম ভাষায় এই জঘন্য সন্ত্রাসবাদী হামলার নিন্দা করছে। ওই আক্রমণে ৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৪ জনের বেশি। এই হিংস্র আক্রমণের পর আমরা নিহতদের আত্মীয়স্বজন, ভারত সরকার ও ভারতের নাগরিকদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।
পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ওই দেশের মাটিতে অনেকগুলি জঙ্গি সংগঠন সক্রিয়। অবিলম্বে তাদের সাহায্য দেওয়া বন্ধ করুক পাকিস্তান। সেই দেশ যেন জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় না হয়ে ওঠে। জঙ্গিদের একটাই উদ্দেশ্য। অশান্তি সৃষ্টি করা। অস্থিতিশীলতার জন্ম দেওয়া।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা করারও অঙ্গীকার করেছে আমেরিকা। প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আক্রমণ আমাদের প্রতিজ্ঞাকে দৃঢ়তর করে তুলবে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা ভারতের সঙ্গে সবরকম সাহায্য করব।
স্বাধীনতার পরে পুলওয়ামার মতো অত বড় হামলা আর কখনও কাশ্মীরে হয়নি। গত ৫ ফেব্রুয়ারি নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রকাশিত তথ্যে দেখা গিয়েছে, গত পাঁচ বছরে জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি হানার সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জঙ্গি হানায় নিরাপত্তা রক্ষীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৯৩ শতাংশ। শুধু তাই নয়, বিগত পাঁচ বছরে সেখানে জঙ্গি কার্যকলাপ বেড়েছে ১৭৬ শতাংশ।
এই সময়ের মধ্যে জঙ্গি হামলা হয়েছে ১৭০৮ টি। অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে প্রতি মাসে গড়ে ২৮ টি করে জঙ্গি হামলা হয়েছে।
লোকসভায় এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল, ২০১৪ সালে ২২২ টি জঙ্গি হামলা হয়। ২০১৫ সালে হামলার সংখ্যা কিছু কমে। সেবছর ২০৮ বার জঙ্গি হামলা হয়েছিল। ২০১৬ সালে ফের জঙ্গি হামলা ৫৪.৮ শতাংশ বাড়ে। ২০১৭ সালে ৩৪২ টি এবং ২০১৮ সালে ৬১৪ টি জঙ্গি হামলা হয়। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সন্ত্রাসবাদী হানায় নিহত হয়েছে ১৩১৫ জন। তাদের মধ্যে ১৩৮ জন সাধারণ নাগরিক, ৩৩৯ জন নিরাপত্তারক্ষী ও ৮৩৮ জন জঙ্গি।