
শেষ আপডেট: 17 November 2023 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: জয়নগরের তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্কর খুনের ঘটনায় রাজ্য-রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতে ফের এক তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনা ঘটল রাজ্যে। এবার আমডাঙায়। পঞ্চায়েত প্রধান রূপচাঁদ মণ্ডলের খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে কিছু তথ্য এসেছে। তা থেকে স্পষ্ট, পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে রূপচাঁদ মণ্ডলকে!
জয়নগরের তৃণমূল নেতা খুনেও পুলিশ এমন দাবিই করেছিল। এই ঘটনায় পুলিশ প্রথমে গ্রেফতার করে শাহরুল নামে এক যুবককে। তাকে জেরা করেই পুলিশ জানতে পারে, সইফুদ্দিনকে খুনের আগে আততায়ীরা দিন কয়েক ধরেই অনুসরণ করছিল। তিনি কোথায় যান, কখন যান, সঙ্গে কে কে থাকেন--- সবকিছুর ওপরই নজর ছিল। শাহরুলের ওপরই দায়িত্ব ছিল সইফুদ্দিনের গতিবিধির ওপর নজর রাখার। এমনকী সইফুদ্দিনকে খুন করার জন্য ভাড়া করা হয়েছিল একজন শার্প শ্যুটারকেও।
পুলিশ এখনও পর্যন্ত সইফুদ্দিন খুনে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙাতে খুন হয়ে গেলেন তৃণমূল নেতা রূপচাঁদ। বোমা মেরে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশ আনোয়ার হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। তাকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, রূপচাঁদের ওপরও গত কয়েকদিন ধরে নজর রাখা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ আমডাঙা থানার কামদেবপুর হাটে গিয়েছিলেন রূপচাঁদ। প্রায় পতিদিনই সেই হাটে যান তিনি। তবে অন্যান্য দিন তাঁর সঙ্গে কেউ না কেউ থাকেন। এই পুরো বিষয়টিই নজরে রেখেছিল আনোয়াররা, দাবি পুলিশের। কিন্তু বৃহস্পতিবার তিনি নিজে একাই গাড়ি চালিয়ে হাটে যান। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই রূপচাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
পারিবারিক বিবাদ নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশে খুন হলেন রূপচাঁদ, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই খুন হতে হয়েছে তাঁকে। যদিও সেই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় বিধায়ক রফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছে, তৃণমূলের মধ্যে কোনও কোন্দল নেই। পুলিশও এখনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তত্থ্যে কোনও প্রমাণ পায়নি। এখন দেখার কোনদিকে বাঁক নেয়, রূপচাঁদ খুনের তদন্ত!