শেষ আপডেট: 12 November 2020 11:40
মেডিকেল স্ক্যানার, থ্রিডি প্রিন্টিং, ইলেকট্রনিক লার্নিক্সের মতো বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে ঐ মমির গলার স্বর তাঁরা পুনর্গঠন করতে পেরেছেন বলে দাবি জানিয়েছেন বিজ্ঞানিরা। মমিটি মিশরের এক পুরোহিতের। যাঁর দেহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছিলেন। তাঁরাই জানিয়েছেন এত বছরের পুরোনো দেহ বলেই গলার স্বর তার স্বাভাবিকতা বদলে ভূতুড়ে শব্দের মতো শোনাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে লন্ডনের রয়্যাল হলোওয়ে কলেজের লেকচারার ডেভিড এম হওয়ার্ড বলেন,"বর্তমানে মমিটির শারীরিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করেই গলার স্বর পুনর্গঠন করা হয়েছে। মমিটির জিভের অবস্থা এতটাই ক্ষত-বিক্ষত যে এর চেয়ে ভাল শব্দ বের করা সম্ভব ছিল না। পুরো বাক্য বা শব্দ কোনওটাই স্পষ্টভাবে বের করা সম্ভব হয়নি এখনও। অডিও আউটপুটটি তৈরি করতে আমাদের বেশ খাটতে হয়েছে। তবুও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে একদিন পুরো কথাটাই স্পষ্টভাবে শোনা যায় তার লক্ষ্যে।"
জার্মানির ইউয়ারজবার্গ ইউনিভার্সিটি হসপিটালের চোখ, নাক, গলার রোগ বিশেষজ্ঞ রুডোলফ হ্যাজেন, যিনি মানুষের পঞ্জরাস্থির গবেষকও, তিনি এই ঘটনায় সংশয় প্রকাশ করেছেন। বুকের পাঁজর না থাকলে কথা কীভাবে বেরোবে এই নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়। এই সমীক্ষায় যুক্ত বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন তাঁরা ভবিষ্যতে আরও এই পরীক্ষা চালিয়ে যাবেন। এই ধরণের পরীক্ষানিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে পুরোনো দিনের ঘটনা সম্পর্কে নতুনকরে আগ্রহ তৈরি হবে মানুষের মধ্যে। ইতিহাস সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হবে। মিশরের প্রাচীন মন্দির সম্পর্কেও নতুন করে নানা তথ্য জানা যাবে। সব দিক থেকেই এটি একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা, এর ফলে মমি সংক্রান্ত গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, এমনটাই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।