দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপাতত বিদ্রোহ থামল পাঞ্জাব কংগ্রেসে। হরিশ রাওয়াতের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর নভজ্যোৎ সিং সিধুকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে মেনে নিয়েছেন ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিং। তবে সিধুর সঙ্গে দুজন কার্যকরী থাকবেন।
গত বৃহস্পতিবার শোনা যায়, পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করা হতে পারে প্রাক্তন ক্রিকেটার নভজ্যোৎ সিং সিধুকে। তারপরেই কার্যত বিদ্রোহ করেন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। তিনি সনিয়া গান্ধীকে চিঠি দিয়ে বলেন, বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সুনীল জাখরকে কোনওভাবেই সরানো উচিত হবে না। এই পরিস্থিতিতে শনিবার পাঞ্জাব সরকারের হেলিকপ্টারে চড়ে চণ্ডীগড়ে যান হাইকম্যান্ডের তরফে পাঞ্জাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হরিশ রাওয়াত। সেখানে তিনি অমরেন্দ্র সিং-এর সঙ্গে দেখা করেন।
২০১৭ সাল থেকে সিধুর সঙ্গে অমরেন্দ্র সিং-এর অশান্তি চলছে। আগামী বছরেই বিধানসভা ভোট হবে পাঞ্জাবে। তার আগে প্রদেশ কংগ্রেসে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থামানোর জন্য উদ্যোগী হয়েছেন সনিয়া। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এবং সনিয়া নিজে দফায় দফায় অমরিন্দর সিং ও সিধুর সঙ্গে বৈঠক করেন। গত সপ্তাহে অমরিন্দর সিং বলেন, হাইকম্যান্ড যা সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি মেনে নেবেন। কিন্তু সিধুকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করা হতে পারে জেনে তিনি তীব্র আপত্তি করেছেন।
হাইকম্যান্ড চেয়েছিল, সিধু প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হোন। সেই সঙ্গে দু’জন সহ সভাপতি নিয়োগ করা হোক। তাঁদের একজন হবেন দলিত। অপরজন হবেন বর্ণহিন্দু।
বৃহস্পতিবার রাত ন’টায় অমরিন্দর সিং ও সিধু, দু’জনেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ বিধায়ক ও মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। সিধুর পক্ষে ছিলেন ছ’জন বিধায়ক। মন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন সুখজিন্দর সিং রণধাওয়া, চরণজিৎ সিং চান্নি এবং ত্রিপত রাজিন্দর বাজওয়া। তাঁরা প্রকাশ্যেই ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন।
জানা গিয়েছে, অমরেন্দ্র হাইকম্যান্ডকে জানিয়েছেন তিনি যেমন সিধুকে মেনে নিয়েছেন তেমন মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে প্রদেশ সভাপতি যেন হস্তক্ষেপ না করেন। সব মিলিয়ে পাঞ্জাব কাংগ্রেসে যে বিদ্রোহ চলছিল তাতে আপাতত ইতি পড়ল।