
শেষ আপডেট: 28 October 2023 10:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। রেশন দুর্নীতির অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ মন্ত্রীর সল্টলেকের জোড়া বাড়িতে পৌঁছেছিলেন তদন্তকারীরা। দীর্ঘ জেরার শেষে মধ্যরাতে মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে ইডি।
ইডি সূত্রের দাবি, জেরায় কোনও ধরনের সহযোগিতা করেননি মন্ত্রী বা তাঁর মেয়ে ও স্ত্রী। এদিকে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন প্রচুর অর্থের খোঁজ মিলেছে মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী, কন্যার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। সেকারণেই তাঁদের সকলেরই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।
তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ২০২০ সাল অর্থাৎ লকডাউনের সময় থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত রেশন কেলেঙ্কারি নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তিনটি গুরুতর অভিযোগ জমা হয়েছিল। সেই সময় খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। কী কারণে ওই অভিযোগগুলির কোনও তদন্ত না করে সেগুলি ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
শুক্রবার ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ শোনার পরে আদালত চত্বরেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন বর্তমান বনমন্ত্রী তথা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ইডি এবং সদ্য ধৃত মন্ত্রীর আইনজীবীদের মধ্যে বিস্তার টানাপড়েনের পর শেষমেশ বাইপাসের ধারে তাঁর পছন্দের অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই মুহূর্তে সেখানেই চিকিৎসা চলছে মন্ত্রীর। সূত্রের খবর, বর্ষীয়ান মন্ত্রী সামান্য সুস্থ হলেই তাঁকে আলিপুর কমান্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। ইতিমধ্যে সেই প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
ইডির দাবি, নোটবন্দির সময়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু মল্লিকের স্ত্রী মনিদীপা ও তাঁর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ক্যাশ জমা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা।
দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেল আদালতে পেশ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। দুটি অ্যাকাউন্টই রয়েছে আইডিবিআই ব্যাঙ্কে। একটি অ্যাকাউন্ট মনিদীপা মল্লিকের নামে। অন্য অ্যাকাউন্টটি প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের নামে।
নোটবন্দি হয়েছিল ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর। ইডি জানিয়েছে, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০১৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের স্ত্রীর আইডিবিআই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ক্যাশ তথা নগদ জমা হয়েছে ৬ কোটি ৩ লক্ষ টাকা।
জ্যোতিপ্রিয়র মেয়ে প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এক মাসেই জমা পড়েছে নগদ ৩ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা। নভেম্বর মাসে নোটবন্দি হয়েছিল। ওই এক মাসেই প্রিয়দর্শিনীর অ্যাকাউন্টে ক্যাশে এই টাকা জমা পড়ে। তদন্তকারীদের দাবি, বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করতে মেয়ে ও স্ত্রীর নামে ভুয়ো সংস্থা খুলে তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছিল ওই টাকা।