
শেষ আপডেট: 15 February 2024 21:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের ওপর পুলিশি হামলার অভিযোগের ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ পাঁচ পদস্থ কর্তাকে ডেকে পাঠাল লোকসভার সংসদীয় স্বাধিকার রক্ষা কমিটি।
বুধবার সন্দেশখালি যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। পরে অসুস্থও হয়ে পড়েন সুকান্ত। ওই ঘটনায় রাজ্য পুলিশ প্রশা্সনের বিরুদ্ধে সংসদীয় স্বাধিকার রক্ষা কমিটির কাছে ই-মেলে অভিযোগ জানিয়েছিলেন সুকান্ত।
তারই প্রেক্ষিতে রাজ্যের মুুখ্যসচিব ভগবতী প্রসাদ গোপালিকা, ডিজি রাজীব কুমার, উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শরৎ কুমার দ্বিবেদী, বসিরহাটের এসপি হুসেন মেহেদি রহমান এবং উত্তর ২৪ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষকে তলব করেছে সংসদীয় কমিটি।
১৯ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় তাঁদের সংসদীয় স্বাধিকার রক্ষা কমিটির কাছে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকেই টাকি থেকে সন্দেশখালি যাওয়ার কর্মসূচিতে পুলিশি বাধার অভিযোগ করেছে বিজেপি। ১৪৪ ধারা জারি থাকায় সেখানে তাঁদের যেতে দেওয়া হবে না বলে জানায় পুলিশ। এরপরই বিজেপি রাজ্য সভাপতি এবং বাকি কর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয় তাঁদের। তার মধ্যেই পুলিশের গাড়ির বনেটে উঠে যান সুকান্ত।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাড়িতে উঠেই তিনি কিছুটা অচেতন হয়ে পড়েন। বিজেপি নেতাকে গাড়ি থেকে নামানোর চেষ্টা করা হয়। এরপরই তিনি জ্ঞান হারান। সেখান থেকে প্রথমে বসিরহাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ সুকান্তকে ভর্তি করা হয় কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে।
রাতে দলের রাজ্য সভাপতিকে দেখতে হাসপাতালে যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, “শারীরিক হেনস্থা হয়েছে। আমার মনে হয় মমতার নির্দেশেই হয়েছে।”
সূত্রের খবর, এরপরই সুকান্তর ই-মেল থেকে লোকসভার সংসদীয় কমিটির কাছে অভিযোগ জানানো হয় রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পুলিশের পরিকল্পিত হামলার জেরে সংসদের প্রাণ সংশয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এবার এ ব্যাপারেই রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তা এবং জেলার দুই পদস্থ আইপিএসকে তলব করল সংসদীয় কমিটি।
এ ব্যাপারে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, "সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে বিজেপির লোকজন সন্দেশখালিতে গোলমাল পাকাতে গিয়েছিল। সেটা করতে না পেরে সুকান্তবাবু নাটক করলেন। আর সংসদীয় কমিটি সেজন্য রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের দিল্লিতে তলব করল। আমাদের প্রশ্ন, ৩ অক্টোবর এই সংসদীয় কমিটি কোথায় ছিল?"
শান্তনু বলেন, "সেদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা বাংলার সাংসদরা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিন ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রতিমন্ত্রী ব্যাকডোর দিয়ে পালিয়ে গেলেন। আর অমিত শাহের পুলিশ সেদিন আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের ওপর লাঠি চালাল, মহিলা সাংসদদের গায়ে হাত দিয়ে টানা হ্যাঁচড়া করল, বয়স্ক সাংসদদেরকেও রেয়াত করা হয়নি। সেদিন কোথায় ছিল এই সংসদীয় কমিটি?"
.ে