
শেষ আপডেট: 18 November 2023 12:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: জেলার কোনও প্রত্যন্ত গ্রামে নয়। সামাজিক বয়কট এবার খোদ বর্ধমান শহরে। পাড়ায় ঢোকার রাস্তা তৈরি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের একাংশ বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে একটি পরিবারকে রাস্তা তৈরির নিদানও দেয়। অন্য পরিবারের লোকজন তা মানতে না চেয়ে আইনের দ্বারস্থ হন। আর তাতেই রুষ্ট হন শাসকদলের মাতব্বররা। এরপরেই ওই পরিবারটিকে সামাজিকভাবে বয়কট করার জন্য মাইকে প্রচার করা হয় বলে দাবি।
ধান কাটার মরশুম চলছে। কিন্তু ওই পরিবারের জমির ধান জমিতেই পড়ে রয়েছে। কারণ শাসকদলের ফতোয়ায় কোনও শ্রমিক ওই পরিবারের জমিতে কাজ করতে পারছে না বলে অভিযোগ। পরিবারের লোকজন জানান, শ্রমিকরা ভয়ে কাজ করতে আসছেন না। এমনকী তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেও নিষেধ করা হয়েছে এলাকার বাসিন্দাদের। পরিবারের সদস্য সেলিমা বেগম বলেন, “আমাদের জায়গার উপরে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছিল। আমরা তা মানতে চাইনি। সেই কারণে আমাদের উপর আগেও আক্রমণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তৃণমূলের কিছু নেতা-কর্মী আমাদের বাড়িতে এসে চড়াও হয়ে হুমকি দেয়, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। প্রতিবাদ করায় আমাদের মারধর করা হয়। আমাদের পরিবারও তৃণমূল সমর্থক। তারপরও আমাদের সঙ্গে এমন করা হচ্ছে।”
মেমারির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর কাশ্মীরা খাতুন সেখ ও তাঁর স্বামী সুরমান আলির নেতৃত্বে হামলা হয় বলে সেলিমার অভিযোগ। সেলিমা বেগমের স্বামী সেখ আজিজুল হক বলেন, “প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝামেলায় নেতারা অকারণে মাথা ঘামাচ্ছে। যাদের জন্য রাস্তা তৈরি হচ্ছে তারা কাউন্সিলরের অনুগামী। তাই কাউন্সিলর তাঁর দলবল নিয়ে এসে ফতোয়া জারি করেছে।” কাউন্সিলরের অনুগামীরা খুন করার হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আজিজুল।
যে পরিবারের সঙ্গে আজিজুলের জমি সংক্রান্ত বিবাদ চলছে সেই পরিবারের সদস্য সবুর আলি সেখ বলেন, “ওই পরিবারটির সঙ্গে গ্রামের কারও সম্পর্ক ভালো নয়। তাঁদের বাড়ির পাশ দিয়ে একটি রাস্তা গিয়েছে। আমাদের সঙ্গে গন্ডগোল হওয়ার জন্য তিনি রাস্তাটি কেটে দেন। তা নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য বলেছিলাম। ওঁরা আমাদের কথার গুরুত্ব দেননি। উল্টে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই পরিবারের বিরুদ্ধে গোটা পাড়ার লোকজন বীতশ্রদ্ধ। তবে কেউ সামাজিক বয়কট করেনি।”
মেমারি শহর তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানোয়ার হোসেন মণ্ডল বলেন, “শাসকদলের কাউন্সিলর যদি এমন ঘটনা ঘটান তবে তা খুবই লজ্জাজনক এবং অন্যায়। ওই পরিবার তৃণমূলের সমর্থক। মিটিং মিছিলে যায়। আমি বিষয়টি দলের উচ্চ নেতৃত্বকে জানিয়েছি।” যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেমারি পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাশ্মীরা খাতুন সেখ। তাঁর বক্তব্য, “ওই পরিবারকে একাধিকবার রাস্তার সমস্যা মেটানোর জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও ভাবেই আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি। রাস্তার সমস্যার জন্য পিছনের বাড়িগুলির অসুবিধা হচ্ছিল, আমরা রাস্তা করে দিয়েছি।” তবে সামাজিক বয়কটের বিষয়টি অস্বীকার করেন কাউন্সিলর। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, “স্থানীয় দুই পরিবারের মধ্যে গন্ডগোল আছে শুনেছি। তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছে। এর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সম্পর্ক নেই। তৃণমূল কংগ্রেস কাউকে সামাজিক বয়কট করে না।”