
শেষ আপডেট: 18 November 2023 19:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেজাজ হারিয়ে দলেরই এক কর্মীকে চড় মারার অভিযোগ উঠল বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে কুচলিবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার জাবুরাবাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, প্রকাশ্যেই এক দলীয় কর্মীকে তিনি মারধর করেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
সূত্রের খবর, গতকাল রাতে জাবুরাবাড়ি গ্রামে গিয়েছিলেন অনন্ত মহারাজ। সেখানে সীমান্ত এলাকা পরির্দশন করে দলের এক কর্মীর বাড়িতে খাওয়াদাওয়া কথা ছিল তাঁর। কিন্তু যে বাড়িতে খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল সেখানে যেতে গিয়েই বিপত্তি বাঁধে। জানা গেছে, যে কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল অনন্ত মহারাজের তাঁর বাড়ির রাস্তা ছিল খুবই সরু। গলির ভেতরে বাড়িতে যেতে গিয়ে অনন্ত মহারাজের গাড়ি আটকে যায়। এতেই মেজাজ হারান তিনি।
বিজেপি সাংসদ নাকি এতটাই রেগে গিয়েছিলেন যে যিনি তাঁর সারাদিনের শিডিউল তৈরি করেছিলেন তাঁকে রেই মারধর করতে থাকেন। ওই দলীয় কর্মীকে প্রকাশ্যেই পরপর চড় কষিয়ে দেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন অনন্ত মহারাজ। তাঁর বক্তব্য, “ওকে কিছু গাইডলাইন দেওয়া ছিল। ও কাজটা করেনি। আসলে প্রোটোকলের জায়গায় কোনওভাবেই আপস করা যাবে না। আমি জানতাম না আমাকে ওই জায়গায় নিয়ে যাবে। ওখানকার পরিস্থিতি কী তাও জানি না। যদি কিছু একটা হয়ে যায়। আমার লোক আমার সঙ্গে এরকম করলে হবে নাকি! আমাকে ডেকেছে ভাল। কিন্তু ওখানে গাড়ি ঢুকলে তা ঘোরানোরও রাস্তা নেই। আমি তো চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম।” বিজেপি সাংসদের দাবি, “মানুষের আবেগ রয়েছে। তারা আমাকে ডাকছে। কিন্তু গিয়ে দেখলাম খুবই বিপজ্জনক এলাকা। সীমান্ত এলাকা। গাড়ি ঢুকেছে, ঘুরে আসার রাস্তা নেই। ভুল করেছে বলেই শাসন করেছি।”
যদিও এ ব্যাপারে কোচবিহার জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত সরকার বলেন, “একজন রাজ্যসভার সাংসদ, যিনি নিজেকে মহারাজ আখ্যা দিয়ে চলেন, তিনি এরকম একটা ঘটনা ঘটাবেন ভাবতেই পারি না। আসলে যারা বিজেপি করে, তাদের এটাই ঐতিহ্য। ধূপগুড়ির নির্বাচনেও দেখেছিলাম, প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সময় বিজেপিরই নেতা অলোক চক্রবর্তী প্রার্থীকে ফুলের তোড়া দিতে যাওয়ায় জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী কীভাবে ফেলে লাথি মেরেছিলেন। আমি শুনেছি যে কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল অনন্ত মহারাজের তাঁর বাড়ির রাস্তা সরু ছিল। সাংসদের গাড়ি আটকে গেলে তিনি চিৎকার করে বলেন তাঁর কোটি টাকার গাড়ি নষ্ট হয়ে যাবে। তারপরেই দলীয় কর্মীকে সবার সামনেই বেধড়ক মারধর করেন।”