দ্য ওয়াল ব্যুরো : নতুন বছরের শুরুতেই মন খারাপের খবর। প্রসার ভারতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বন্ধ করে দেবে এয়ার ইন্ডিয়ার ন্যাশনাল চ্যানেল। পাঁচ শহরে রিজিওন্যাল অ্যাকাডেমিকস অব ব্রডকাস্টিং অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়ারও দরজা বন্ধ হবে অবিলম্বে। অল ইন্ডিয়া রেডিওর ভাঁড়ে মা ভবানী। অর্থের সংকটেই এতগুলি সংস্থাকে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
এয়ার ন্যাশনাল চ্যানেল থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা বেজে ৪৮ মিনিট থেকে পরদিন সকাল ৬ টা ১২ মিনিট পর্যন্ত সম্প্রচার করা হয়। অনুষ্ঠান হয় মূলত হিন্দি ও ইংরেজিতে। খবর, সঙ্গীত ও বিনোদ, এই তিনটি বিষয়ে অনুষ্ঠান হয়। নাগপুর, কলকাতা, দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং আলিগড়, এতগুলি জায়গা থেকে এআইআর ওই চ্যানেল সম্প্রচার করে। তার মূল উদ্দেশ্য সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ভারতের বিপুল বৈচিত্র ও বহুত্ববাদকে তুলে ধরা। চ্যানেলের জনপ্রিয়তাও আছে যথেষ্ট।
রিজিওন্যাল অ্যাকাডেমিকস অব ব্রডকাস্টিং অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া (আরএবিএম) তৈরি হয়েছিল স্বাধীনতার ঠিক পরে, ১৯৪৮ সালে। ক্রমশ অল ইন্ডিয়া রেডিও-র সংস্থা হিসাবে দিল্লি ও আরও অনেক শহরে কাজ করতে থাকে আরএবিএম। দিল্লিতে তার ২০ হাজার বর্গ মিটারের অফিস আছে। আগে নাম ছিল স্টাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। তার মূল কাজ অল ইন্ডিয়া রেডিও এবং দূরদর্শনের ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। ভারত বাদে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের ইঞ্জিনিয়াররাও এই সংস্থায় প্রশিক্ষণ নিতে আসেন।
প্রসার ভারতী স্থির করেছে, আমেদাবাদ, হায়দরাবাদ, লখনউ, শিলং ও তিরুবনন্তপুরমের আরএবিএমগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ওই সব অফিসে যে কর্মীরা কাজ করেন, তাঁদের প্রয়োজন মতো অন্যান্য আরএবিএমে ট্রান্সফার করা হবে।
রেডিওর ডায়রেক্টরেট জেনারেলের পক্ষ থেকে ৩ জানুয়ারি এই মর্মে এক নির্দেশ জারি করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, খরচ কমানোর জন্য অবিলম্বে ন্যাশনাল চ্যানেল ও পাঁচটি আরএবিএম বন্ধ করে দেওয়া হবে। গত ২৪ ডিসেম্বর প্রসার ভারতী এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একটি সূত্রের খবর, এআইআরের কর্মীদের একাংশ এই সিদ্ধান্তে খুশি নন। তাঁরা বলছেন, ন্যাশনাল চ্যানেলের গুরুত্ব আছে যথেষ্ট। খরচ কমানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া যেত। প্রয়োজনে ন্যাশনাল চ্যানেলকে অ্যাপ নির্ভর পরিষেবায় পরিণত করা যেত। তার বদলে একেবারে বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হচ্ছে না।