দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা ময়দানে এমনকিছু ফুটবল কোচেরা রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের দিকেও ফিরেও তাকাননি। কী পেলাম, কী পেলাম না, এই জটিল অঙ্কের মধ্যে যেতেই চাননি। নিজের ইচ্ছেতে বেঁচেছেন, আর একটাই লক্ষ্য ছিল, ভালমানের ফুটবল ছাত্রদের তৈরি করে যাওয়া।
সমাজে এরকম মানুষও দেখা যায়, যাঁরা নিজেদের সংসারের দিকেও তাকাননি। শুধুই ত্যাগ করে গিয়েছেন। দুঃস্থ ফুটবলারদের নিজের বাড়িতে রেখে তাদের কোচিং করিয়ে গিয়েছেন।
ময়দানে মূরারী শূর, খোকন বসু মল্লিকদের বিখ্যাত ছাত্রদের জন্যই ওই কোচরাও বেঁচে রয়েছেন, থাকবেনও। খোকনবাবুর কথাই ধরা যাক। তাঁর স্মৃতিতে গত দু’বছর যাবৎ একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট হচ্ছে কসবা হালতুতে। আয়োজক সাদার্ন শায়ার ফুটবল ক্লাব। এই নামী ক্লাবটি খুদেদের ট্রেনিং দিয়ে থাকে। কিন্তু তারা আয়োজন করছে ভেটারেন্স ফুটবল আসর।
আজ শনিবার ক্লাব মাঠে সারাদিন ধরে হবে এই ভেটারেন্স ফুটবল উৎসব। ময়দানের প্রবাদপ্রতীম তারকারা মাঠে থেকে আলো ছড়াবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সুব্রত ভট্টাচার্য, শ্যামল ঘোষ, অশোক চন্দের মতো প্রাক্তনরা। জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত দত্ত প্রমুখ নামী প্রশাসকরাও।
একটা সময় খোকন বসু মল্লিকের হাত ধরে উঠে এসেছেন ময়দানের কিংবদন্তিরা। সেই তালিকায় বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়, বিদেশ বসুরা রয়েছেন। আরও বহু তারকার জন্ম হয়েছে এই মেঠো কোচদের জন্যই। এই ক্লাবটি এই ধরনের কোচদের স্মরণ করছে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে।
টুর্নামেন্টের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক তথা একসময়ের নামী প্রাক্তন ফুটবলার জয়দীপ দে বলছিলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য হল খোকন বসু মল্লিকদের মতো কোচদের মনে রাখা এই ধরণের স্মৃতি ফুটবল আয়োজন করে। এই আসরে খেলবেন ভেটারেন্স তারকারা, যাঁরা জানেন খোকনবাবুর কোচিং কার্যকারিতা। নিজেদের জীবন উৎসর্গকৃত করেছিলেন কোচিংয়ের জন্যই। তাঁদের স্মৃতিরক্ষার্থেই এমন এক আসরের ব্যবস্থা।’’
জয়দীপ বাবু আরও বলছিলেন, ‘‘আরও একটি লক্ষ্য হল ফুটবলারদের মধ্যে পুনর্মিলন সংঘটিত করা। বছরের এই একটি দিনে বর্তমান ও প্রাক্তনদের মধ্যে সম্পর্কের সেতুবন্ধন রচিত হয়, এটিও এক মহান উদ্যোগ বলা যেতে পারে।’’
এই ফুটবল আসরের যিনি প্রধান ব্যবস্থাপক শুভ্র দাস জানালেন, আমাদের এই মাঠ থেকে উঠে এসেছে ময়দানের নামী নক্ষত্ররা। একটা সময় কলকাতার বিভিন্ন নামী ক্লাবে খেলেছেন বহু ফুটবলার। সেই তালিকায় রয়েছেন নীলাদ্রি চক্রবর্তী, জয়দীপ বসু, সঞ্চিৎ দত্ত ভৌমিক, অমূল্য মন্ডল, শোভন দাস, মেহতাব হোসেন, সৌমেন চ্যাটার্জি, কাজল দাস, শুভেন্দু দাসরা।
কলকাতার উপকন্ঠে কিংবা শহরতলী অঞ্চলে এরকম বহু মাঠ থেকে প্রতিভার জন্ম হতো। কিন্তু এখন খেলার চলটাই উঠে গিয়েছে। তার মধ্যেও সাদার্ন শায়ারের এই উদ্যোগ, তাদের মহৎ প্রচেষ্টা বাকিদের সমানভাবে উৎসাহ দেখাবে।