
শেষ আপডেট: 24 June 2019 18:30
এত কিছুর মধ্যেও নির্বিকার মুকেশ কচুরিওয়ালা। কারণ, জিএসটি, আয়করের নামই নাকি তিনি শোনেনি কখনও। বলেছেন, ‘‘১২ বছর ধরে আমার এই কচুরির দোকান। গরম কচুরি, সিঙাড়া সবই মেলে। এলাকার বাসিন্দাদের খুবই পছন্দ। বাইরে থেকেও লোক আসে কিনতে। জিএসটি, আয়কর এ সবও যে দিতে হয় সেটাই তো জানতাম না।’’
বছরে আয় কত? এসবিআই অফিসারদের প্রশ্নের মুখে গড়গড় করেই সব খরচাপাতি বলে দিয়েছেন মুকেশ। তেল, সিলিন্ডার, মশলা থেকে খাবার বানানোর খুঁটিনাটি কিছুই লুকোননি। বছরে ৭০ লক্ষ টাকা একেবারে ধরাবাঁধা। বরং তার বেশিই হয়ে যায় কোনও কোনও সময়। ইদানীং নাম এত ছড়িয়েছে যে কোটিতে রোজগার হচ্ছে মুকেশের।
আয়কর দফতরের (আলিগড় রেঞ্জ) ডেপুটি কমিশনার রবীন্দ্র পাল সিং জানিয়েছেন, ৪০ লক্ষের উপর আয় হলেই জিএসটি রেজিস্ট্রেশন জরুরি। পাশাপাশি, খাবারের উপর ৫ শতাংশ ট্যাক্স। তার কিছুই দিতেন না মুকেশ। ডেপুটি কমিশনারের কথায়, “প্রথম প্রথম আমরা দোকানের উপর নজর রাখা শুরি করি। তার পর নানা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে পড়ে আসল সত্যি। ২১ জুন সার্চ ওয়ারেন্ট বার করে দোকানে তল্লাশি চালাতেই সব বলে দেন মুকেশ। তবে উনি আয়করের ব্যাপারে কিছু জানতেন না বলেই দাবি করেছেন।”
মুকেশ কচুরিওয়ালার মতোই আলিগড়ে আরও ৬০০ কচুরির দোকান রয়েছে। আয়কর দফতরের অফিসারদের সন্দেহ, প্রতিটা দোকানের মালিকই লাখপতি। অথচ আয়কর দেননা কেউই। মুকেশের পরে এ বার গোটা আলিগড় জুড়ে স্ট্রিট ফুডের দোকানগুলিতে তল্লাশি চালানো হবে বলে জানিয়েছেন অফিসাররা।