
শেষ আপডেট: 4 April 2022 13:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "ছাত্ররা যে এরকম ভাষায় কথা বলতে পারে, এ আমার দুঃস্বপ্নেরও অতীত ছিল। আমি কোনও দিন ভাবতে পারিনি, ছাত্ররা এই ভাষায় কোনও শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে পারে। আমার নিজেকে ব্যর্থ একজন শিক্ষক বলে মনে হচ্ছে। সম্পূর্ণ ব্যর্থ আমি আমার কাজে।"-- সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলছিলেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (Aliah University) সম্প্রতি নিগৃহীত উপাচার্য মহম্মদ মণ্ডল।
এদিন কথা বলতে গিয়ে দৃশ্যতই কান্নায় ভেঙে পড়েন মহম্মদ। জানান, তাঁর খুবই অসহায় লাগছে, অস্বস্তি হচ্ছে গোটা ঘটনায়। তাঁর কথায়, "ছাত্ররা যে শিক্ষককে এমন চড় মারার কথা, কান ধরে ওঠবস করতে বলতে পারে, তা আমার এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।"
উপাচার্য বলেন, "প্রথমে আমি সিকিউরিটি গার্ডকে বলি, কোলাপসিবল গেট আটকে দিতে। কিন্তু তার পরে ওরা এমন কথাবার্তা বলতে থাকে, এত অশ্লীল কথা বলে, গার্ড বাধ্য হন গেট খুলে দিতে। এর পরে আমি বোর্ডরুমে গিয়ে বসি। এর পরে বোর্ডরুমের দরজায় ধাক্কা, লাথি, অকথ্য ভাষায় গালাগাল চলতে থাকে। আমি তখন বুঝতে পারি, এভাবে হবে না, আমি নিজের চেম্বারেই গিয়ে বসি। তার পরেই ওই কাণ্ড আমায় ঘিরে ধরে"
তিনি আরও বলতে থাকেন, "আমি প্রচণ্ড অসম্মানিত বোধ করছি, খুবই লজ্জা লাগছে আমার। অসহায় লাগছে। এই অবস্থায় আলিয়ায় (Aliah University) যেতেও নিরাপদ বোধ করছি না। আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যেতে চাই। যাদবপুরের উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে চিঠিও লিখেছি ইতিমধ্যেই। উনিও উত্তর দিয়েছেন। যে পরিস্থিতি হয়েছে, তাতে আমার পক্ষে আর সম্মানজনক ভাবে আলিয়ায় শিক্ষকতা করা সম্ভব নয়।"
অভিযুক্ত ছাত্রনেতা গিয়াসুদ্দিন সম্পর্কে উপাচার্য জানান, সে শুরু থেকেই এমনই দাপুটে। নিজেকে নেতা বলে দাবি করে। উপাচার্যকে প্রশ্ন করা হয়, এই সাহস সে পাচ্ছে কোথা থেকে? মহম্মদ মণ্ডল বলেন, "তা তো আমি জানি না। কিন্তু ও বরাবরই এরকম দাপুটে। সেদিনও নিরাপত্তারক্ষীদের ভয় দেখিয়ে জোর করে ঢুকেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।"
আলিয়া নিয়ে মমতা: ‘একটু কটু কথা বলেছে, পুলিশ তো অ্যারেস্ট করেছে’