
শেষ আপডেট: 19 June 2020 18:30
দু’দিন আগেই লে ও শ্রীনগরের বায়ুসেনা ঘাঁটি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এসেছিলেন এয়ার চিফ মার্শাল ভাদুরিয়া। তার আগে লাদাখে বায়ুসেনার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন তিনি। বায়ুসেনা সূত্র জানাচ্ছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের এয়ারবেস থেকেও হামলা চালাতে পারে চিন। তাই সবদিকেই কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
কমব্যাট এয়ার পেট্রলিং-এর জন্য নামানো হয়েছে চিনুক কার্গো হেলিকপ্টার, আ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার, মিরাজ-২০০০ ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট, মিগ-২৯ ফাইটার জেটের নয়া ভার্সন এবং নৌসেনার নজরদারি বিমান পি-৮১ এয়ারক্রাফ্ট।
চিনের দিক থেকে আক্রমণ হলে ভারতীয় বায়ুসেনা যে যে কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট তৈরি রেখেছে তার মধ্য আছে—
মিরাজ-২০০০ ফাইটার জেট বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকে পাক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। কার্গিল যুদ্ধে টলোলিং ও বাটালিক জয়েও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল মিরাজ ২০০০ ফাইটার জেট। গোয়ালিয়ের বেস থেকে মিরাজ-২০০০ ফাইটার জেটকে লাদাখের কাছাকাছি এয়ার বেসে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রায় তিন দশক ধরে ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম হাতিয়ার এই মিরাজ ২০০০ ফাইটার জেট। মাল্টিরোল সিঙ্গল ইঞ্জিন এই জেটটির নির্মাতা ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশন। মিরাজ মূলত বোমারু বিমান। এটি মাল্টিরোল ফাইটার জেট যা একদিকে আকাশযুদ্ধে প্রতিপক্ষ বিমানের সঙ্গে মুখোমুখি যুদ্ধ করতে সক্ষম, তেমনি আকাশ থেকে নিখুঁত আঘাত হানতে পারে মাটিতে থাকা কোনও লক্ষবস্তুতেও। ৭৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের ফাইটার জেট ১৭ হাজার কিলোগ্রাম ওজন নিয়ে আকাশে উড়তে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অ্যাপাচে গার্ডিয়ান অ্যাটাক হেলিকপ্টার গত বছরেই ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে আসে। চার-ব্লেডের অত্যাধুনিক এই কপ্টার সরাসরি লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে। এতে রয়েছে নোজ-মাউন্টেট সেন্সর স্যুট ও নাইট ভিশন মোড, যে কোনও আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে ও যে কোনও সময় কাজ করতে পারে। অ্যাপাচে কপ্টারের গতিবেগ প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। শত্রুপক্ষের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে পারে এই চপার।
রাশিয়ার তৈরি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের নয়া ভার্সন ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম বড় শক্তি। এই মুহূর্তে ভারতের হাতে তিন স্কোয়াড্রন মিগ-২৯ ফাইটার জেট রয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতেও আছে মিগ-২৯ ফাইটার জেটের ন্যাভাল ভার্সন। আকাশযুদ্ধে পাক বাহিনীকে আগাগোড়া ব্যাকফুটে রেখেছে ভারত, যার অন্যতম কারণ এই মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান।
আমেরিকার বোয়িং কোম্পানির থেকে কেনা অত্যাধুনিক চিনুক সিএইচ-৪৭এফ (আই) হেলিকপ্টার রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে। কামান-গোলাবারুদ সহ বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র, গাড়ি, রসদ সহ বিভিন্ন সামগ্রী এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বয়ে নিয়ে যেতে পারে এই কপ্টার। সারা পৃথিবীতে ভারত ছাড়া আর মাত্র ১৮টি দেশের কাছে আছে এই হেলিকপ্টার। প্রায় দশ হাজার কেজি সরঞ্জাম নিয়ে ঘণ্টায় ১৭৫ মাইল গতিতে আকাশে উড়তে পারে চিনুক।