দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা বিশ্ব এমনিতেই জর্জরিত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে মৃত্যুমিছিল এখনও চলছে, ভ্যাকসিন এখনও অধরা। তারই মধ্যে এই প্যানডেমিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপপ্রচারে মেতে উঠেছে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো। রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, আলকায়েদা, আইসিস—এই ধরনের কট্টর ইসলামিক মৌলবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, ‘কাফের’দের অর্থাত মুসলিম ছাড়া অন্য ধর্মের মানুষদের শাস্তি দিতেই নাকি করোনার রূপে সৈনিক পাঠিয়েছেন আল্লা।
মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের নানা সময়ের নানা হামলায় ধ্বংস হয়েছে পৃথিবীর নানা প্রান্ত। সম্প্রতি মহম্মদের কার্টুন আঁকা নিয়ে ফ্রান্সে একের পর এক মানুষকে খুন করেছে তারা। বিচ্ছিন্ন হামলা চলেছে আরও বহু দেশে। এ সবের মধ্যেইনতুন এক গুজবকে অস্ত্র করে মানুষের মগজধোলাই করার চেষ্টা করছে তারা।
রাষ্ট্রপুঞ্জ সম্প্রতি করোনা আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্ত্রাসীদের কার্যকলাপের উপর একটা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তার নাম, ‘স্টপ ভাইরাস অফ ডিসইনফরমেশন: দ্য ম্যালিসাস ইউজ অফ সোশ্যাল মিডিয়া বাই টেরোরিস্ট, ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিস্ট অ্যান্ড ক্রিমিনাল গ্রুপস ডিউরিং দ্য কোভিড প্যানডেমিক’। অর্থাত প্যানডেমিকের সময়ে জঙ্গিদের সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর ব্যবহার এবং ভুল তথ্য ছড়ানো।
ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে জঙ্গি সংগঠনগুলি। তারা চাউর করছে, করোনাভাইরাস আল্লার পাঠানো সৈনিক। ইউরোপের অ-মুসলিম মানুষদের শাস্তি দিতেই এই ভাইরাস পাঠিয়েছেন ঈশ্বর। এই ভাইরাস আরও বেশি করে ছড়িয়ে দিতে হবে শত্রুদের মধ্যে।
এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলকায়েদা ও আইএস-পন্থী জঙ্গি গ্রুপগুলিতে শত্রুদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে দেওয়ার নিদান দেওয়া হচ্ছে রীতিমতো। আর এক জেহাদি সন্ত্রাসী সংগঠন ‘আল শাবাব’ আবার দাবি করেছে, বিদেশি হানাদার বাহিনী ও তাদের সমর্থকরাই করোনা মহামারীর জন্য দায়ী।
প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসেই জম্মু-কাশ্মীরের তৎকালীন ডিজিপি দিলবাগ সিং জানিয়েছিলেন, করোনা আক্রান্তদের কাশ্মীর উপত্যকায় পাঠিয়ে ভারতে কোভিড-১৯ জীবাণু আরও ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। এই ঘটনাকে ‘করোনা জেহাদ’ বলা হয়েছিল।
ডিজিপি দিলবাগ সিং শ্রীনগর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে গান্ধেরওয়াল এলাকায় একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান করোনা আক্রান্তদের কাশ্মীরে পাঠানোর চেষ্টা করছে বলে খবর মিলেছে।
সম্প্রতি ইউএন-এর রিপোর্ট সামনে আসার পরে আরও বেশি করে স্পষ্ট হয়েছে, সারা বিশ্বজুড়েই করোনাকে অস্ত্র করছে জেহাদিরা। ভাইরাস ছড়ানোর বার্তা তারই ইঙ্গিত।