দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত রবিবার উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁ-র উহাইতি অঞ্চলে মন্দিরে গিয়েছিলেন ৫০ বছর বয়সী এক মহিলা। তাঁকে গণধর্ষণ করার পরে খুন করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মন্দিরের পুরোহিত ও তার দুই সঙ্গী। গণধর্ষণ ও খুনের কথা জানাজানি হওয়ার পরে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব ঘোষণা করেছেন, তদন্তের জন্য তাঁর দল তিন সদস্যের কমিটি গঠন করবে। কমিটি খতিয়ে দেখবে, ঠিক কী হয়েছিল।
সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র রাজেন্দ্র চৌধুরি বলেন, কমিটির শীর্ষে থাকবেন প্রাক্তন সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব। তিনি আগামী ৭ জানুয়ারি ঘটনাস্থলে যাবেন। মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত পুরোহিত আত্মগোপন করেছেন। মঙ্গলবার রাতে তার দুই সঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জাতীয় মহিলা কমিশন থেকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি হিতেশ সি আওয়াস্থিকে চিঠি লিখে বলা হয়েছে, এই ঘটনার তদন্তে তিনি নিজে যেন হস্তক্ষেপ করেন। মহিলা কমিশনের মুখপাত্র রেখা শর্মা বলেন, আগামী দিনে ঘটনাস্থলে যাবেন কমিশনের এক সদস্য। তিনি গণধর্ষণ ও খুন নিয়ে তদন্ত করবেন।
কংগ্রেস দাবি করেছে, হাইকোর্টের কোনও বিচারপতিকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করানো হোক। রাজ্য সরকার মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিক ৫০ লক্ষ টাকা।
সোমবার বদায়ুঁ-র উঘাইতি পুলিশ থানায় মহিলার পরিবারের তরফে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। সেখানে বলা হয়, রবিবার সন্ধেবেলা একটি মন্দিরে গিয়েছিলেন ওই মহিলা। তারপর থেকে আর ফেরেননি তিনি।
ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। জানা যায়, রবিবার গভীর রাতে স্থানীয় এক জায়গায় এক মহিলাকে রক্তাক্ত অবস্থায় কেউ বা কারা ফেলে রেখে গেছে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পুলিশকে স্থানীয়রা জানায়, রবিবার গভীর রাতে একটি গাড়িতে করে দু’জন এসে ওই মহিলাকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। তারা দেখতে পেয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
মৃতের পরিবার পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, অনেক বলার পরেও উঘাইতি থানার অফিসার রাভেন্দ্র প্রতাপ সিং ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি করেন। ঘটনার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পরে সোমবার বিকেলে ওই মহিলার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তিন সদস্যের এক বিশেষজ্ঞ দল এই ময়নাতদন্ত করেন। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা চিকিৎসকও ছিলেন।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, মহিলার যৌনাঙ্গে মারাত্মক আঘাত লেগেছিল। সেখানে রড ঢোকানো হয়েছিল। এছাড়া তাঁরা পাঁজরের হাড় ও পা ভাঙা ছিল। সেইসঙ্গে তাঁর ফুসফুসে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। তার ফলে তাঁর দেহ থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এর ফলেই ওই মহিলার মৃত্যু হয়।