
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অখিল গিরি
শেষ আপডেট: 4 August 2024 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের হুঁশিয়ারির পরই মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন অখিল গিরি। তবে নিজের কর্মকাণ্ডে এতটুকু অনুতপ্ত নন, স্পষ্ট জানিয়েছেন রাজ্যের কারামন্ত্রী। দ্য ওয়ালকে অখিল গিরি বলেন, "ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই। পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।"
বনদফতরের মহিলা আধিকারিকের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরির বিরুদ্ধে। তাঁকে রীতিমতো স্থানীয় রেঞ্জ অফিসার মনীষা সাউকে হুমকি দিয়ে 'কুৎসিত' আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, অখিলের এই আচরণে ক্ষুব্ধ খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের তরফে অবিলম্বে তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকী অখিলকে দল থেকে বরখাস্তের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। এরপরই মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করলেন অখিল। তাঁর কথায়, “আমার কাজে হয়তো দলের ক্ষতি হচ্ছে। সেই কারণেই পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি মেনে নিলাম। মন্ত্রিত্ব ছাড়া আমার কাছে বড় ব্যাপার নয়।”
শনিবার মহিলা অফিসারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে অখিল বলেছিলেন, ‘বেয়াদব’, জানোয়ার!..আপনি আমাকে চেনেন না! এসডিপিওকে সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলেছিলাম। এমন ডাং দিয়ে পেটাব না, বুঝবেন।" পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরে সেই ঘটনায় আন্দোলিত হয় গোটা রাজ্য। যদিও পুরো বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীর সাফাই, ওই পরিস্থিতিতে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল বলেই মনে হয়েছিল তাঁর।
রবিবার সকালে জানা যায়, মহিলা বন আধিকারিককে কুকথা বলায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে কারামন্ত্রী অখিল গিরিকে, এমনই নির্দেশ দিয়েছিল তৃণমূল। বলা হয়েছিল, ওই আধিকারিকের কাছে ব্যক্তিগতভাবেও ক্ষমা চাইতে হবে অখিলকে। ক্ষমা না চাইলে তাঁকে ইস্তফা দিতে হবে। এই নির্দেশের পর ঘটনাটির জন্য সাময়িক দুঃখপ্রকাশ করলেও অখিল কিন্তু ক্ষমা চাননি। বরং বেলা গড়িয়ে বিকেল হতেই তিনি ইস্তফা দেওয়ার বিষয়ে ঘোষণা করলেন।
তাজপুরে সমুদ্র সৈকতে গাছ কেটে বেআইনি ভাবে দোকানপাট বসানো হয়েছিল। সেই দোকানপাটগুলোই ভেঙে দেন স্থানীয় রেঞ্জ অফিসার মনীষা সাউ। তারই জেরে শনিবার ওই মহিলা অফিসারকে যা নয় তাই বলছেন কারামন্ত্রী। দলীয় সূত্রের খবর, তাজপুরের ওই ঘটনা দেখার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে দলের প্রত্যেক মুখপাত্রকে মোবাইলে এসএমএস করে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, কেউ যেন অখিল গিরির পক্ষ নিয়ে কথা না বলেন অর্থাৎ অখিল যে কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন তাতে তাঁকে দলের কোনওস্তরের কোনও নেতা যেন প্রশ্রয় না দেন, সেটাই স্পষ্ট করা হয়েছে। অখিল গিরির এমন আচরণে শনিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাও।
এর আগে দেশের মহিলা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে উদ্দেশ্য করে কুকথা বলার অভিযোগ উঠেছিল অখিল গিরির বিরুদ্ধে। সে সময় তৃণমূলের তরফে অখিলের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করার পাশাপাশি অখিলকে ডেকে সতর্কও করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরও তাঁর আচরণে বদল না আসায় অখিলের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ঘাসফুল শিবির।