
অখিল গিরি
শেষ আপডেট: 5 August 2024 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামনে দাঁড়িয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে পদত্য়াগপত্র তুলে দিতে চান অখিল গিরি। তার আগে জানালেন, মন্ত্রিত্ব যাওয়াতে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই।
তাজপুরের সমুদ্র সৈকতে জবরদখল উচ্ছেদ করায় শনিবার এক মহিলা বনাধিকারিকের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠে অখিল গিরির বিরুদ্ধে। বন দফতরের রেঞ্জারের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্যে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে তৃণমূলকে। তারপরেই অখিল গিরিকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অখিল গিরিকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরে যাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে ক্ষমাও চাইতে বলে দল। তবে বিধায়ক নিজে ওইদিনের ঘটনার জন্য অনুতপ্ত হলেও কোনও আধিকারিকের কাছে ক্ষমা চাইতে নারাজ। তিনি বলেন, “মন্ত্রিসভা থেকে চলে যাচ্ছি, তাতে কোনও ক্ষোভ নেই। কিন্তু উত্তেজনার বশে যে কথাটা বলে ফেলেছি, তার জন্য আমি অনুতপ্ত। কোনও আধিকারিকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই নেই। তবে আমার আচরণে মন্ত্রিসভা যদি কালিমালিপ্ত হয়ে থাকে, সরকারের ভাবমূর্তি যদি নষ্ট হয়ে থাকে, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে চিঠি লিখছি।"
শুক্রবার রাতে তাজপুরের সমুদ্রসৈকতে বন দফতরের জায়গা থেকে দখলদার উচ্ছেদ করা হয়। শনিবার দুপুরে হকারদের সমর্থনে ওই এলাকায় যান অখিল গিরি। ঘটনাস্থলে তখন উপস্থিত ছিলেন কাঁথি রেঞ্জের ফরেস্ট অফিসার মনীষা সাউ-সহ বন দফতরের অন্য কর্মীরা। বন দফতরের মহিলা আধিকারিককে উদ্দেশ করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আপনি কত বড় অফিসার, আমি দেখে নেব।” জবাবে মহিলা অফিসার তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তখন অখিলকে বলতে শোনা যায়, “আপনাকে কে নাইট ডিউটি করতে বলেছে? আপনি রাত্রিবেলা কেন দোকানগুলো কাটলেন, আমি জানতে চাই।”
বিতণ্ডার মাঝেই অখিলকে বলতে শোনা যায়, ‘‘২৫ ফুট আমরা নিলাম। এর ভিতরে যদি আপনি আসেন আপনি ফিরে যেতে পারবেন না। বেশি কথা বলবেন না আপনি একদম।" শালীনতার সীমা অতিক্রম করে এও বলেন, "আপনি সরকারের চাকর। মাথা নিচু করে কথা বলবেন। আপনি একদম বেয়াদবি করবেন না। আপনাকে যখন সবাই ডাঙ দিয়ে পেটাবে, তখন দেখবেন!"
একজন মন্ত্রীর মুখে এমন ভাষা প্রকাশ্য়ে আসতেই হইচই পড়ে যায়। ক্ষুব্ধ বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, "কর্মরত অফিসারকে এভাবে কেউ বলতে পারেন না। তিনি যে পদেই থাকুন। যদি কিছু বলার থাকত আমি দফতরের মন্ত্রী, আমাকে উনি বলতে পারতেন। তিনি তা না করে যেটা করলেন সেটা অনভিপ্রেত।" এরপর তড়িঘড়িই অখিল গিরিকে পদত্য়াগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।