দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সোমবার প্রয়াগরাজের বাগমবরি মঠে অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদের সভাপতি মহন্ত নরেন্দ্র গিরির (Narendra Giri) মৃতদেহ পাওয়া যায়। সাধুদের বৃহত্তম সংগঠন অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদের কর্ণধার আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পুলিশের ধারণা। ওই মঠে প্রয়াত মহন্তের একটি সাত পাতার সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে নরেন্দ্র গিরি লিখেছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য যোগগুরু আনন্দ গিরি ও অপর দু'জন দায়ী। আনন্দ গিরি প্রয়াত নরেন্দ্র গিরিরই শিষ্য ছিলেন।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি মুকুল গোয়েল বলেন, সুইসাইড নোটটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের অতিরিক্ত ডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) প্রশান্ত কুমার জানান, হরিদ্বারে আনন্দ গিরিকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়েছে পুলিশের একটি টিম।
কয়েক মাস ধরে আনন্দ গিরির সঙ্গে মহন্তের প্রকাশ্যে বিরোধ চলছিল। উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে মঠের তহবিল তছরুপের অভিযোগ করেছিলেন। একসময় মহন্ত আনন্দ গিরিকে নিরঞ্জনী আখড়া থেকে বহিষ্কার করেন। অভিযোগ, আখড়ার ঐতিহ্য ভেঙে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তখন আনন্দ গিরি তাঁর গুরুর বিরুদ্ধে টাকা তছরুপের অভিযোগ তোলেন। পরে অবশ্য ওই অভিযোগ তোলার জন্য ক্ষমাও চেয়ে নেন।
আনন্দ গিরি এক বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, তাঁর সঙ্গে মহন্তের কোনও ভুল বোঝাবুঝি হয়নি। তাঁর অভিযোগ, যারা তহবিল তছরুপ করেছে, তারাই মহন্তের মৃত্যুর জন্য দায়ী। মহন্ত অতীতে একাধিকবার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে তাঁর মতামত জানিয়েছেন। গত বছর মহন্তর সভাপতিত্বে আখড়া পরিষদের এক বৈঠক হয়েছিল। তাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রামজন্মভূমি আন্দোলনের ধাঁচে ফের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এবার লক্ষ্য হবে বারাণসী ও মথুরার হিন্দু মন্দিরগুলি 'মুক্ত করা'। সম্প্রতি মহন্ত দাবি করেছিলেন, আখড়া পরিষদকে রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের সদস্য হিসাবে নিতে হবে।
নরেন্দ্র গিরির মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ সিং যাদব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে বলেছেন, "আখড়া পরিষদের সভাপতি নরেন্দ্র গিরিজি-র মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। ঈশ্বর মহন্তকে তাঁর পায়ে স্থান দিন।"
যোগী আদিত্যনাথ বিবৃতি দিয়ে বলেন, "মহন্তের মৃত্যু আধ্যাত্মিক জগতের অপূরণীয় ক্ষতি। প্রভু রামের কাছে আমার আবেদন, তিনি যেন ওই পুণ্যাত্মাকে নিজের পায়ে স্থান দেন এবং মহন্তের শিষ্যদের এই শোক সহ্য করার শক্তি দেন।"