
শেষ আপডেট: 16 November 2022 09:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের জটিলতা দেখা দিয়েছে রাজস্থান কংগ্রেসে। কংগ্রেস হাই কমান্ডের তরফে রাজস্থানের ভারপ্রাপ্ত এআইসিসির-র সাধারণ সম্পাদক অজয় মাকেন সরে দাঁড়ালেন (Ajay Maken Resigned)। নতুন সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে লেখা চিঠিতে মাকেন বলেছেন, রাজস্থানের (Rajasthan) দায়িত্ব তিনি পালন করতে পারবেন না। রাজ্যের বিদ্রোহী বিধায়কদের শাস্তি না দেওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত খাড়্গেকে লেখা চিঠিতে বলেছেন মাকেন (Ajay Maken)।
প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরে সনিয়া গাঁধীর নির্দেশে খাড়্গের সঙ্গে মাকেনও জয়পুরে গিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, কংগ্রেস (Congress) বিধায়কদের দিয়ে এক লাইনের প্রস্তাব পাশ করাতে যে, 'রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী বদলে কংগ্রেস সভাপতিকে পূর্ণ অধিকার দেওয়া হচ্ছে।'
কংগ্রেসের সভাপতি তখন সনিয়া। তিনি চেয়েছিলেন, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটকে কংগ্রেস সভাপতি করতে। তাঁর জায়গায় রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী করার ভাবনা ছিল সচিন পাইলটকে।
কিন্তু গেহলট অনুগামী বিধায়কদের বাধায় পরিষদীয় দলের বৈঠকই ডাকা যায়নি। দিল্লি ফিরে মাকেন গেহলট অনুগামী বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।
এখন নতুন সভাপতির কাছে তাঁর দাবি, অবিলম্বে বিদ্রোহী বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। খাড়্গেকে লেখা চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ওই বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
মাকেনের সিদ্ধান্তে রাজস্থানে ফের দলে সংকট বাড়তে পারে মুখ্যমন্ত্রী গেহলটের। তিনি আবার দলের তরফে গুজরাতের বিধানসভা ভোটের দায়িত্বে রয়েছেন।
মাকেনের দাবি মেনে নতুন সভাপতি খাড়্গে কোনও পদক্ষেপ করেন কিনা সেটাই দেখার। তবে দিল্লির এই নেতার সিদ্ধান্তে রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বাসনা বয়ে বেড়ানো সচিন পাইলটের অবস্থান ভাল হল সন্দেহ নেই।
দিন সাতেক আগে সচিন নিজেও এই ব্যাপারে সরব হন। রাজস্থানের কংগ্রেস নেতার দাবি, হাইকমান্ডের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের কাছে সচিন পাইলটের দাবি, কংগ্রেসে সিদ্ধান্তহীনতার সংস্কৃতির এবার অবসান হোক। আপনি ব্যবস্থা নিন বিদ্রোহী বিধায়কদের বিরুদ্ধে।
প্রয়াত কংগ্রেস নেতা রাজেশ পাইলটের পুত্র সচিন রাজস্থানের রাজনীতিতে নিজেই বরাবর বিদ্রোহী বলে পরিচিত। ২০২০ তে জনা কুড়ি বিধায়ককে নিয়ে হরিয়ানার রিসর্টে উঠে দাবি তোলেন, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে। কিন্তু বাকি বিধায়কদের পাশে না পেয়ে শাস্তির মুখে পড়েন দলে। রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীদের হস্তক্ষেপে সেই দফায় শাস্তি এড়াতে পারেন।
এখন সেই সচিন বিদ্রোহী বিধায়কদের শাস্তির দাবি তুলে হাইকমান্ডের অবমাননা নিয়ে সরব হয়েছেন। বলাইবাহুল্য মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটকেই নিশানা করেছেন তিনি।
গতমাসে কংগ্রেস সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থী হতে তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধীর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেন গেহলট। দাবি তোলেন, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী এবং কংগ্রেস সভাপতি, দুই পদেই রাখতে হবে তাঁকে। সনিয়ার নির্দেশে মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং অজয় মাকেন জয়পুরে যান বিধায়কদের মতামত নিতে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী গেহলটের সমর্থক বিধায়করা কংগ্রেস পরিষদীয় দলের বৈঠক বয়কট করে বিধানসভার স্পিকারের কাছে গণ ইস্তফা দেন। তাঁদের দাবি ছিল, গেহলটকে একান্তই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরালে তাঁর অনুগামী কাউকে ওই পদে বসাতে হবে। কোনও অবস্থাতেই সচিন পাইলটকে মেনে নেওয়া হবে না।
ওই ঘটনার জন্য পরে সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে দেখা করে ক্ষমা চান গেহলট। কিন্তু কংগ্রেস সভাপতি পদে লড়াইয়ে রাজি হননি। সনিয়া গান্ধীর নির্দেশ অগ্রাহ্য করায় গেহলটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।
তবে দলীয় সভাপতি নির্বাচনের মুখে কঠোর পদক্ষেপ করতে চাননি সনিয়া। বিষয়টি নতুন সভাপতির বিবেচনার জন্য রেখে দেন। তিনজন বিধায়ককে শো কজ নোটিস ধরিয়ে সেই যাত্রায় বিতর্ক ধামাচাপা দেয় কংগ্রেস।
কংগ্রেস মহলের খবর, সচিন আসলে চাইছেন গেহলটের ডানা ছাঁটুক কংগ্রেস হাইকমান্ড। কিন্তু বিধানসভা ভোটের তেরো মাস আগে সচিনের প্রত্যাশা পূরণে গেহলটকে সরিয়ে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে কিনা সেটা লাখ টাকার প্রশ্ন। অনেকের ধারণা, খাড়্গে সভাপতি হলেও এই ব্যাপারে শেষ কথা বলবেন সনিয়াই।
অর্পিতাকে গ্রেফতার করে ঠিক করেছে, কিন্তু বিজেপি নেতা নন কেন: মমতা