দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমান উড়িয়ে বিশ্বের দুর্গমতম পথ পাড়ি দিতে চলেছেন এয়ার ইন্ডিয়ার মহিলা পাইলটরা। যে পথে বিমান ওড়াতে শতবার ভাবেন পাইলটরা, সেখানেই একদল মহিলা তাঁদের লক্ষ্যপূরণ করতে চলেছেন। এই দলের সবচেয়ে দক্ষ পাইলট জোয়া আগারওয়াল বলেছেন, আজ ইতিহাস গড়তে চলেছেন মহিলারা। আকাশেও নারীশক্তির জয় হবে।
সান ফ্রান্সিসকো থেকে বেঙ্গালুরু, ১৬ হাজার পথ বিমান উড়িয়ে ফিরবেন মহিলা পাইলটদের এই দল। মাঝে পড়বে উত্তর মেরু তথা সুমেরু বৃত্ত। কঠিনতম চ্যালেঞ্জ এখানেই। এয়ার ইন্ডিয়ার অভিজ্ঞ অফিসাররা বলেছেন, সুমেরু বৃত্তের ওই পথে বিমান ওড়ানো সহজ ব্যাপার নয়। বিভিন্ন বিমান সংস্থা তাদের দক্ষ ও অভিজ্ঞ পাইলটদেরই পাঠায়। এয়ার ইন্ডিয়া সেখানে কমবয়সী মহিলা পাইলটদের ওপরেই ভরসা রেখেছে। জোয়ার নেতৃত্বে পাইলটদের টিম আজ ইতিহাস তৈরি করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুমেরু পার করতে গেলে বহু বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। ওই পথ নাকি বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম এলাকা। সুমেরুর ওপর দিয়ে উড়ানের সময় নানা সমস্যা হতে পারে। কম্পাসের কাঁটা সেখানে ১৮০ ডিগ্রিতে ঘোরাফেরা করে। বিমানে যান্ত্রিক সমস্যাও হতে পারে। খুবই দক্ষ ও অভিজ্ঞ পাইলট ছাড়া ওই পথ নিরাপদে পার হওয়া সম্ভব নয়।
জোয়া কিন্তু আত্মবিশ্বাসী। ২০১৩ সালেও সবচেয়ে কমবয়সী পাইলট হিসেবে দীর্ঘতম পথ বিমানে পাড়ি দিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। এবার ১৬ হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘতম পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন জোয়া। সুমেরু পার করার গুরুদায়িত্ব তাঁর ওপরেই। বলেছেন, তাঁর টিমের সব মহিলা পাইলটরাই দক্ষ ও প্রশিক্ষিত। ক্যাপ্টেন থানমাই পাপাগারি, আকাঙ্খা সোনাওয়ানে, শিবানি মানহাসের বহুদিনের বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা আছে। আকাশে দীর্ঘসময় উড়ানেও অভ্যস্ত তাঁরা।
“সুমেরু ওপর দিয়ে বোয়িং-৭৭৭ উড়িয়ে যাওয়া দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। সেই লক্ষ্য পূরণ হতে চলেছে। এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য দেশের বিমানমন্ত্রক ও এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে আমি কৃতজ্ঞ”, বলেছেন জোয়া। শত বাধা পেরিয়ে আজ বিশ্বজয়ের পথে এয়ার ইন্ডিয়ার মহিলা পাইলট ক্যাপ্টেন জোয়া আগারওয়াল।