দ্য ওয়াল ব্যুরো : উত্তরপ্রদেশের কুশীনগরের কাছে ভেঙে পড়ল বায়ুসেনার একটি জাগুয়ার বিমান। গোরখপুর বিমান ঘাঁটি থেকে বিমানটি রুটিন মাফিক চক্কর দিতে বেরিয়েছিল। বিমান ভেঙে পড়লেও পাইলট যথাসময়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। বিমান ভেঙে পড়া নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এর আগে গতবছর ৪ সেপ্টেম্বর যোধপুরের বানাদের কাছে বায়ুসেনার একটি মিগ ২৭ বিমান ভেঙে পড়ে। তার কয়েকমাস আগে ৫ জুন উত্তর পশ্চিম গুজরাতের কচ্ছ এলাকায় মুন্দ্রা তালুকে আর একটি জাগুয়ার বিমান ভেঙে পড়ে। এয়ার কম্যান্ডার সঞ্জয় চৌহান নিহত হন। ২৭ জুন মহারাষ্ট্রের নাসিকে একটি সুখোই ৩০ এমকেআই বিমান ভেঙে পড়ে। ৮ জুন একটি জাগুয়ার বিমান ল্যান্ডিং-এর সময় খারাপ হয়ে যায়। ২৩ মে জম্মু-কাশ্মীরের নাথা টপ অঞ্চলে বায়ুসেনার একটি চিতা হেলিকপ্টার ক্র্যাশ ল্যান্ড করে। ২০ মার্চ ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা সীমান্তে সুবর্ণরেখা নদীর ওপরে ভেঙে পড়ে একটি অ্যাডভান্সড হক জেট ট্রেনার।
বায়ুসেনার বিমান বার বার এইভাবে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। অনেকের অভিযোগ, বিমানগুলি ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। সেজন্যই উড়তে গিয়ে ভেঙে পড়ে। অনেকে এর জন্য দুর্নীতিকে দায়ী করেন। কেউ কেউ বলেন, বিদেশ থেকে যখন বিমান অথবা বিমানের যন্ত্রাংশ কেনা হয়, তখন ঠিকমতো পরীক্ষা করা হয় না।
একসময় ভেঙে পড়ার জন্য কুখ্যাত ছিল মিগ বিমান। অনেকগুলি বিমান ভেঙে পড়ার পরে মিগের নামই হয়ে যায় ‘ফ্লাইং কফিন’। মিগ নিয়ে ভীতি দূর করার জন্য প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ নিজে ওই বিমানে চড়েছিলেন। যদিও বায়ুসেনার বিমান ভেঙে পড়া তার পরেও বন্ধ হয়নি।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, কোনও যুদ্ধ ছাড়া, স্রেফ দুর্ঘটনায় যদি প্রতি বছর এতগুলি বিমান ভেঙে পড়ে, পাইলটদের জীবনহানি হয়, তবে তা লজ্জার কথা। এর আগে ইউপিএ আমলে বায়ুসেনার বহু বিমান রুটিন মাফিক উড়তে গিয়ে ভেঙে পড়েছে। এনডিএ আমলেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
কিছুদিন আগে শোনা গিয়েছিল, বায়ুসেনার বিমানগুলির আধুনিকীকরণ হচ্ছে। আগামী দিনে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে। কিন্তু বাস্তবে দুর্ঘটনার সংখ্যা বিশেষ কমেনি। অনেকে অভিযোগ করেন, যখনই দুর্ঘটনা হয়, তড়িঘড়ি তদন্ত করে কয়েকজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের শাস্তি দিয়ে দুর্ঘটনার দায় ঝেড়ে ফেলে বায়ুসেনা।