দ্য ওয়াল ব্যুরো : ডিএমকে নেতা এম করুণানিধির মৃত্যুর পরে দলের নেতা হয়েছিলেন তাঁর ছোট ছেলে এম কে স্ট্যালিন। আগামী বছরের মে মাসে ভোট হবে তামিলনাড়ুতে। তার আগে শোনা যাচ্ছে, করুণানিধির বড় ছেলে এম কে আলাগিরি নতুন দল গড়তে পারেন। সেজন্য তাঁকে বিজেপি সাহায্য করবে। খুব শীঘ্র আলাগিরি বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে আলাগিরি বলেন, "আমি আমার সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলছি। আমরা ভেবে দেখছি, নতুন দল তৈরি করব না ভোটের আগে অপর কোনও দলকে সমর্থন করব?" বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের কথা উড়িয়ে দিয়ে আলাগিরি বলেন, "এসবই বানানো গল্প। বিজেপির কেউ আমার সঙ্গে কথা বলেনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন কেন?"
আগামী সপ্তাহে তামিলনাড়ুতে যাচ্ছেন অমিত শাহ। রাজ্য বিজেপির নেতাদের সঙ্গে বসে তিনি ভোটের কৌশল স্থির করবেন। বিজেপি নেতারা তাঁর সঙ্গে আলাগিরির সাক্ষাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। ডিএমকে সূত্রে বলা হয়েছে, আলাগিরিকে তারা কোনও গুরুত্ব দিচ্ছে না। কারণ মানুষের ওপরে তাঁর কোনও প্রভাব নেই।
প্রায় দুই দশক ধরে ডিএমকে-তে করুণানিধির দুই ছেলের মধ্যে রেষারেষি রয়েছে। করুণানিধি নিজে ছোট ছেলে স্ট্যালিনকে পরবর্তী নেতা হিসাবে তৈরি করেছিলেন। প্রথমে তাঁকে চেন্নাইয়ের মেয়রের পদ দেওয়া হয়। পরে তাঁকে বিধায়ক করা হয়। একসময় স্ট্যালিন উপমুখ্যমন্ত্রীও হন। করুণানিধি তাঁকে দলের কোষাধ্যক্ষ করেছিলেন। পরে করুণানিধির স্বাস্থ্যের অবনতি হতে তিনি স্ট্যালিনকে দলের কার্যনির্বাহী সভাপতি করেন।
প্রয়াত করুণানিধি বড় ছেলে আলাগিরিকে দলের মুখপাত্র 'মুরাসোলি'-র দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তাঁকে পাঠিয়েছিলেন মাদুরাইতে। রাজ্যের দক্ষিণ অংশে দলকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আলাগিরির নেতৃত্বে ওই অঞ্চলে ডিএমকে কয়েকটি আসন পায়। তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতাকে স্বীকৃতি দেয় দল। তিনি দক্ষিণাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক হন।
২০০৯ সালে মনমোহন সিং মন্ত্রিসভায় আলাগিরি হন রসায়ন মন্ত্রী। তার আগে তিনি মাদুরাইয়ের এমপি হয়েছিলেন। স্ট্যালিন এইসময় থেকে ধীরে ধীরে প্রতিটি জেলায় দলের উঁচু পদে তাঁর অনুগামীদের বসাতে শুরু করেন। দলে আলাগিরির ক্ষমতা কমতে থাকে। ২০১৬ সালে আলাগিরিকে দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ডিএমকে-র শীর্ষস্থানটি দখল করার ব্যবস্থা পাকা করে ফেলেন স্ট্যালিন।
তামিলনাড়ুতে বিজেপির শক্তি খুবই কম। সেখানে তার সহযোগী দল হল এআইএডিএমকে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে খুবই খারাপ ফল হয় বিজেপির।