
শেষ আপডেট: 27 August 2023 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের কোটায় ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। ফের আরও এক পড়ুয়ার মরণঝাঁপ (Kota suicide) হোস্টেলের বারান্দা থেকে। চলতি বছরে এই নিয়ে ২১ নম্বর পড়ুয়া আত্মঘাতী হলেন। রবিবার সকালেই জানা গিয়েছিল পড়ুয়া মৃত্যু রুখতে হোস্টেলের ফ্যানে বিশেষ স্প্রিংয়ের ব্যবস্থা করছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, হোস্টেলের বারান্দা থেকে বিশেষ এক জাল লাগানোর কথাও শোনা গিয়েছিল।
আবিষ্কার শুভাঙ্গি নামে ওই পড়ুয়া মহারাষ্ট্র থেকে এসে দাদুর সঙ্গে থাকছিলেন কোটাতে। সেখানেই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। রবিবার একটি টেস্টের পরই কোচিং সেন্টারের ৭ তলা থেকে ঝাঁপ দেন ওই পড়ুয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
সর্বভারতীয় মেডিক্যাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রবেশিকা পরীক্ষার সাফল্য লাভের জন্য অজস্র কোচিং সেন্টার রয়েছে রাজস্থানের কোটা শহরে। প্রতিবছর ২ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া নিট (NEET) এবং জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশনের (JEE) মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোটার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়। কিন্তু এখানে পড়তে এসে বহু পড়ুয়ারই আর বাড়ি ফেরা হয় না। কারণ, পরীক্ষায় চান্স পাওয়ার চাপ হোক, বা কোনও গুপ্ত কারণ, প্রতিবছর শুধু নয়, প্রায় প্রতি মাসেই কোটায় একের পর এক পড়ুয়া আত্মহত্যা করেন। এর আগে ছাত্রছাত্রীদের উপর চাপ কমাতে কোচিং সেন্টারগুলির ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হলেও আত্মহত্যা রোখা যায়নি।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিককালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল থেকে পড়ে ছাত্র-মৃত্যুর ঘটনার পরেই হস্টেলের প্রবেশপথে এবং ক্যাম্পাসে বিভিন্ন জায়গা সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরে প্রশ্ন উঠছে, র্যাগিং-এর মতো বৃহত্তর সমস্যা কি আদৌ সিসিটিভি বসালেই সমাধান হয়ে যাবে? যে মনস্তত্ত্ব থেকে র্যাগিং করার প্রবণতা আসে, সিসিটিভি তো তা নির্মূল করতে পারবে না। কোটার ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন উঠছে। বারান্দায় জাল কিংবা সিলিং ফ্যানে স্প্রিং লাগালেই কি ছাত্রমৃত্যু রোখা যাবে? যে চাপের মুখে সদ্য দ্বাদশ শ্রেণি পাস করা ছেলেমেয়েরা নিজেদের শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়, কোন স্প্রিং কিংবা জাল তা আটকাতে সক্ষম? এই প্রশ্ন আরও একবার উঠে এল ২১ নম্বর ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায়।
যেখানে আত্মহত্যার কারণ মনস্তাত্ত্বিক সেখানে জাল বা স্প্রিং বসিয়ে যে আদৌ ঠেকানো যাবে না ছাত্রমৃত্যু তা যেন স্পষ্ট হয়ে গেল। এত কিছু ব্যবস্থার পরেও ২১ নম্বর ছাত্রের মৃত্যু কোটার আভ্যন্তরীণ গলদকেই যে আরও একবার তুলে আনল প্রকাশ্যে তা স্বীকার করছেন অনেকেই।
মকপোলের সময় বিদ্যুতের শক খেয়ে মৃত্যু ভোটকর্মীর! পাখা ঘোরাতে গিয়েই বিপত্তি ঘটে