
শেষ আপডেট: 24 December 2023 14:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: বহু টাল-বাহানার পর রাজ্য সরকারের উদ্যোগে পূর্বপল্লীর মাঠে তিন বছর পরে ফিরল পৌষ মেলা। বাউল গানের সুরে ভরে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। খুশি শান্তিনিকেতনের মানুষ।
রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করে ও অমর্ত্য সেনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল থেকে বৈতালিক, ব্রহ্ম উপাসনা, বৈদিক মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে বিশ্বভারতীতে শুরু হয় পৌষ উৎসব।
বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই জায়গা কেউ কলুষিত করুক চাই না। কোনও স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে চললে হবে না। আশ্রমিক থেকে পড়ুয়া সকলকেই সম্মান দিতে হবে। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের পৌষ মেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত মানুষ ভাল ভাবে নেয়নি।“
২০১৯ সালের পর ফের পূর্বপল্লীর মাঠে পৌষমেলার আয়োজন করা হয়েছে। যদিও এবার পৌষমেলা বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট করছে না৷ এই মেলার আয়োজক রাজ্য সরকার।
৭ পৌষ ব্রহ্ম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর৷ সেই দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছর পৌষ উৎসবের আয়োজন করত বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বসত মেলা। ২০১৯ সালে কোভিডের সময় থেকে মেলা বন্ধ ছিল। তৎকালীন উপচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর পৌষমেলা বন্ধ রাখার নির্দেশে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। পরে ২০২২ সালে ডাকবাংলো মোড়ে ছোট করে পৌষমেলার আয়োজন করেছিল জেলা প্রশাসন।
২০২৩ সালে বিদ্যুৎবাবুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে মেলা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়। নতুন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য আসার পরে পৌষ মেলা পূর্বপল্লীর মাঠে ফিরবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণ দেখিয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এতে বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও শান্তিনিকেতনবাসীও বিক্ষোভে সামিল হয়েছিল। অবশেষে জেলা প্রশাসন উদ্যোগে নিয়ে পৌষ মেলার আয়োজন শুরু করে পূর্ব পল্লীর মাঠে।
প্রথা অনুযায়ী এবারও শুরু হল ১৮০ তম পৌষ উৎসব। উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সঞ্জয় কুমার মল্লিক সহ আশ্রমিক, পড়ুয়া, প্রাক্তনীরা। ৩ দিন ধরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে চলবে পৌষ উৎসব। পূর্বপল্লীর মাঠ ভাড়া নিয়ে রাজ্য সরকার মেলা করছে৷ ৫ দিন ধরে চলবে এই মেলা৷
ভার্চুয়ালি মেলার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এই পৌষমেলার একটি বিশেষ ঐতিহ্য আছে। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করি, স্মরণ করি তাঁর গানকে৷ অমর্ত্য সেন আমাদের শ্রদ্ধার মানুষ। তিনি ভারতে থাকলে হয়তো আসতেন। দু’বার বিতর্কের জন্য পৌষমেলা হয়নি৷ এবার ধন্যবাদ জানাই জেলার সকল আধিকারিক, বিশ্বভারতীকে মেলার আয়োজন করায়৷ বিশ্বভারতীকে সবাইকে নিয়ে চলতে বলব৷ পড়ুয়া, সম্মানীয় ব্যক্তি, আশ্রমিকদের সম্মান করে, তাদের নিয়ে চলতে বলুন।"