
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
শেষ আপডেট: 21 June 2024 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বহু স্কুলে ফ্যান, লাইট সারাদিন ধরে চালিয়ে রাখার বাতিক রয়েছে। যেন লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন! যা টাকা যাবে তা সরকারের, স্কুলের কারও কিছু নয়।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধমক খেয়ে এ বার নড়ে বসল বিদ্যুৎ দফতর। তাদের চিঠির খোঁচা খেয়ে আবার শিক্ষা দফতর তড়িঘড়ি বৃহস্পতিবারই নোটিস জারি করে দিল। তার মোদ্দা কথা হল, স্কুলে অযথা ফ্যান, লাইট চালিয়ে রাখা যাবে না।
বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ করতে বৃহস্পতিবারই নবান্নের বৈঠকে প্রশাসনিক কর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের ওই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎ অপচয় নিয়ে রাজ্যের স্কুলগুলিতে পৌঁছে গেছে স্কুল শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকা।
নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাজ্যজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা দিনকে দিন বাড়ছে। এমন অবস্থায় বহু স্কুলে বিদ্যুৎ অপচয় করা হচ্ছে। এই জিনিস অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনের বাইরে কোথাও বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে না। এজন্য প্রতিটি জেলা শিক্ষা দফতরকে নিয়মিত নজরদারি চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে পদস্থ আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, অনেক সময়ই খবর আসে সরকারি অফিসে যখন লোক থাকছে না তখনও ফ্যান, আলো জ্বলছে, এমনকী এসিও ব্যবহার হচ্ছে। এভাবে বিদ্যুতের অপচয় বরদাস্ত করা হবে না।
গত মঙ্গলবার রাতে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে কাঠের তৈরি দো'তলা হলং বনবাংলো। বন দফতর এবং দমকলের প্রাথমিক রিপোর্টে আগুন লাগার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসি থেকে শর্টসার্কিট হয়ে আগুন লেগে যায় বন বাংলোতে। পর্যটক না থাকা সত্ত্বেও বাংলোয় অকারণে এসি চালানোর ফলেই যে এই অঘটন তা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী এও বোঝাতে চান যে অকারণে সরকারি দফতরে আলো, ফ্যান এবং এসির ব্যবহারের ফলে হলংয়ের মতো বিপদ ঘটে যেতে পারে অন্যত্রও।
এবার এবিষয়ে প্রতিটি স্কুলকে বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধে নোটিস পাঠাল স্কুল শিক্ষা দফতর।
বহু স্কুলেই ছুটি হয়ে যাওয়ার পরও শ্রেণিকক্ষে ফ্যান, আলো জ্বলতে থাকার অভিযোগ ওঠে। এমনকী নজরদারির অভাবে স্কুল ছুটির পর রাতভর কোনও কোনও শ্রেণিকক্ষে ফ্যান, আলো জ্বলার অভিযোগও এসে পৌঁছেছে শিক্ষা দফতরে। দফতর সূত্রে খবর, তারই প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধের জন্য নির্দেশিকা জারি করা হল। শুধু নির্দেশিকা জারি করা নয়, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে কিনা, দেখতে মাঝে মধ্যে স্কুলগুলিতে অভিযান চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিক্ষা দফতর।
শিক্ষা দফতরের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বিদ্যুৎ দফতরের এক কর্তা বলেন, "চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে নাজেহাল হতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।"