দফায় দফায় বৈঠকের মাঝে শিবসেনার ঘোষণা, পাঁচ বছর মুখ্যমন্ত্রী তাদের দল থেকেই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকার গঠন নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে একের পর বৈঠক চলছে, শিবসেনা সূত্রে খবর, আজই মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যেতে পারে। শুক্ররবার সকালে শিবসেনার সঞ্জয় রাউত বলেন, পুরো পাঁচ বছরের জন্য শিবসেনা থেকেই কাউকে মুখ্
শেষ আপডেট: 22 November 2019 07:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকার গঠন নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে একের পর বৈঠক চলছে, শিবসেনা সূত্রে খবর, আজই মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যেতে পারে। শুক্ররবার সকালে শিবসেনার সঞ্জয় রাউত বলেন, পুরো পাঁচ বছরের জন্য শিবসেনা থেকেই কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করার ব্যাপারে রাজি হয়েছে এনসিপি ও কংগ্রেস। তবে শিবসেনার সভাপতি উদ্ধব ঠাকরেই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হবেন কিনা তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শোনা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে অন্য কোনও নাম প্রস্তাব করেছেন উদ্ধব।
এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে শিবসেনা, এনসিপি ও কংগ্রেসের নতুন জোটের নাম হচ্ছে মহারাষ্ট্র বিকাশ আগাড়ি (মহারাষ্ট্র উন্নয়ন ফ্রন্ট)। এই জোটের নেতৃত্বে শিবসেনাই থাকছে।
আরও পড়ুন: নতুন জোটের সম্ভাব্য নাম ‘মহারাষ্ট্র বিকাশ আগাড়ি’, মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন উদ্ধবই
দ্রুত সরকার গড়তে এখন উঠেপড়ে লেগেছে শিবসেনা। তাদের প্রধান শর্তই হল মুখ্যমন্ত্রী পদে পাঁচ বছরের জন্য থাকবে শিবসেনা। তাই এই শর্ত অন্য দুই শরিক মেনে নিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে তারাও পাল্টা শর্ত দিয়েছে। কড়া হিন্দুত্বের লাইন ছাড়তে হবে শিবসেনাকে। মূলত তাদের কট্টর মনোভাবের জন্যই কংগ্রেসের থেকে সমর্থন পেতে দেরি হচ্ছিল। অযোধ্যায় রামমন্দির গড়া নিয়ে তারা একেবারে অধৈর্য হয়ে উঠছিল।
শিবসেনার কট্টর মনোভাবের জন্যই তাদের সঙ্গে জোটে প্রথম থেকে সায় ছিল না কেরল কংগ্রেসের একাংশের। কারণ শিবসেনার সঙ্গে জোট করে সরকার গড়লে ভবিষ্যতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে কংগ্রেসকে। তাই শিবসেনার সঙ্গে জোটে যাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না কংগ্রেস। যদিও বিজেপির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যেতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা দলনেত্রী সনিয়া গান্ধীকে জানান, শিবসেনাকে সমর্থন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্য সমস্যা হচ্ছিল শিবসেনার কট্টর মনোভাবের আদর্শ।
ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি বলে পরিচিত কংগ্রেসের পক্ষে শিবসেনাকে সমর্থন করা মুশকিলও ছিল। মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বিরাজ চ্যবন বলেন, “দেবেন্দ্র ফড়ণবীশের অপশাসনের অবসান ঘটাতেই আমরা শিবসেনার সঙ্গে থাকছি। আমরা তো আর মহারাষ্ট্রকে ভুগতে দিতে পারি না।”
এই দিন দল আগে কখনও জোট বাঁধেনি বলেই ন্যূনতম সাধারণ কর্মসূচি তৈরি করতে তাদের দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে।
শিবসেনা জানিয়েছে, শনিবারই তারা রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সঙ্গে দেখা করবে বিধায়কদের চিঠি নিয়ে। সবকিছু ঠিকঠাক চললে রবিবার বা সোমবারের মধ্যে মহারাষ্ট্রে নতুন সরকারের শপথ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও দল সরকার গড়তে না পারায় মহারাষ্ট্রে জারি করা হয়েছে রাষ্ট্রপতিশাসন। ২৮৮ বিধানসভার মহারাষ্ট্রে ১০৫টি আসন পেয়েছে বিজেপি, শিবসেনা পেয়েছে ৫৬টি এনসিপি পেয়েছে ৫৪টি ও কংগ্রেস পেয়েছে ৪৪টি আসন।