
শেষ আপডেট: 18 February 2023 10:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতে (Gujarat) নেই নেই করেও দেশের প্রথম এবং বৃহত্তম দুগ্ধ সমবায় আমূলের (Amul) পরিচালন বোর্ডে যথেষ্ট প্রভাব ছিল কংগ্রেসের (Congress) । দেশ জোড়া ব্যবসা করা সেই দুগ্ধ সমবায়কে কংগ্রেস মুক্ত করে সেটির পূর্ণ দখল নিল বিজেপি (BJP)।
আর এই কাজেও তারা দল ভাঙানোর চেনা রাস্তাতেই হেঁটেছে। আমূল সমবায় পরিচালন বোর্ডে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে আসা চারজন ডিরেক্টরকে সম্প্রতি দলে যোগদান করিয়েছে বিজেপি। নতুন পরিচালন বোর্ডে দলছুটদের একজন কান্তি পারমার শোধকে ভাইস চেয়ারম্যান করেছে তারা। সভাপতি করা হয়েছে বিজেপির বিপুল প্যাটেলকে।
গুজরাত, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, তামিলনাড়ুর রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সকলেই জানেন ওই রাজ্যগুলিতে রাজনীতিতে সমবায়ের গুরুত্ব কতটা। এককথায়, অনেকটা পঞ্চায়েতের মতো। পঞ্চায়েত দখলে থাকলে যেমন বিধানসভা, লোকসভা নির্বাচনে লড়াই অনেকটা সহজ হয়ে যায়, ওই রাজ্যগুলিতে সেই একই ভূমিকা নিয়ে আসছে সমবায়গুলি। বিশেষ করে কৃষি এবং দুগ্ধ সমবায়কে ঘিরে ঠিক হয় ক্ষমতার দাঁড়িপাল্লা।
ভোটের রাজনীতি তো আছেই, সমবায় দখলের মাধ্যমে বিপুল টাকার কারবারের দখল কার্যত রাজনৈতিক দলের দখলে চলে যায়। আমূল যেমন চলতি আর্থিক বছরে এখনও পর্যন্ত ৬১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। এই সমবায়ের ভবিষ্যৎ এখন বিজেপি একাই ঠিক করবে।
আমূলের মূল পরিচালন বোর্ডের ক্ষমতা সমীকরণ বদলের জেরে নিচুতলার ৩০০ আঞ্চলিক দুগ্ধ সমবায়ের ক্ষমতা হাতছাড়া হয়েছে কংগ্রেসের। এই সমবায়গুলির সদস্য সংখ্যা প্রায় সাত লাখ। অর্থাৎ অতগুলি পরিবার নিয়মিত আমূলকে দুধ বিক্রি করে থাকে।
মূল সমবায়ে কাদের প্রভাব কতটা তার উপর নির্ভর করে ছোট সমবায়গুলি কারা পরিচালনা করবে। আমূলের পরিচালন বোর্ড কংগ্রেস মুক্ত হওয়া মাত্র ছোট ১৫টি সমবায়ে কংগ্রেস হেরেছে। বাকিগুলিও হাতছাড়া হওয়া সময়ের অপেক্ষা, মানছেন কংগ্রেস নেতারা। ২০২০-র নির্বাচনে আমূল সমবায়ের পরিচালন বোর্ডে কংগ্রেসের চারজন জিতে এসেছিলেন। তাঁরা সকলেই এখন বিজেপিতে।
বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্য পুনর্দখলের মতো আমূলকে কংগ্রেস মুক্ত করার মূল কৃতিত্ব দলের রাজ্য সভাপতি সিআর পাতিলের। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে বলেছেন, গুজরাতের অভাবনীয় জয়ের আসল কারিগর রাজ্য সভাপতি সিআর পাতিল। গত ডিসেম্বরে ১৫৬টি আসন পেয়ে বিজেপি পঞ্চমবারের জন্য ক্ষমতা পুনর্দখল করেছে গুজরাতে।
দলীয় সূত্রের খবর, রাজ্য পুনর্দখলের পরই রাজ্য সভাপতি সিআর পাতিল আমূল দখল মিশনে নেমে পড়েন। দেশের প্রথম এবং প্রধান দুগ্ধ সমবায়টিকে কংগ্রেস মুক্ত করা ছিল নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। আমূলকে পুরোপুরি কংগ্রেস মুক্ত করতে না পারায় বাকি সমবায়গুলিতেও বিজেপি একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে পারছিল না।
রাজনীতিতে সমবায়ের গুরুত্ব বিবেচনা করেই ২০১৯-এ নরেন্দ্র মোদী তাঁর মন্ত্রিসভায় সমবায়কে আলাদা মন্ত্রক হিসাবে তৈরি করে দায়িত্ব দেন আস্থাভাজন অমিত শাহকে। স্বরাষ্ট্রের সঙ্গে সমবায়েও শাহকে দায়িত্ব দেওয়া থেকেই বিরোধীরা বুঝে গিয়েছিল বিজেপির পরবর্তী লক্ষ্য কী।
যেমন, মহারাষ্ট্রে পুণে, লাতুর, ওসমানাবাদ, ঔরঙ্গাবাদের মতো জেলাগুলিতে হাজার হাজার একর জমিকে আখ চাষ করে সেখানকার কৃষক সমবায়। সেই সমবায়ই চিনি কলেরও মালিক। শরদ পাওয়ার এনসিপি গঠন করার পর সমবায়গুলি তাঁর নতুন দলের অধীনে ছিল। তার আগে দীর্ঘদিন একচ্ছত্র ক্ষমতা ভোগ করেছে কংগ্রেস। শাহ সমবায় মন্ত্রী হওয়ার পর অনিয়মের অভিযোগে পাওয়ারের পার্টির দখলে থাকা বহু সমবায়ের পরিচালন সমিতির অনুদান বন্ধ করে দিয়েছেন। বেশ কিছু সমবায় পাওয়ারের পার্টির হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। বিপদ বুঝতে পেরে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে তাঁরে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানান পাওয়ার।
কিন্তু নিজেদের রাজ্য গুজরাতে আমূলকে কিছুতেই কংগ্রেস মুক্ত করতে পারছিলেন না মোদী-শাহরা। সেই স্বপ্নপূরণ করে দিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি সিআর পাতিল।
শিশিরের নামে ‘ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট’, ফাঁসানোর ছক দেখছেন অধিকারীরা