দ্য ওয়াল ব্যুরো : পাঁচ শতাব্দী পরে এবছর ফের আলোর মালায় সাজবে রামজন্মভূমি। শনিবার এমনই ঘোষণা করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। গত অগাস্টে অযোধ্যায় ভূমিপূজন হয়। যোগী জানান, এবছর অযোধ্যায় দীপাবলী উৎসব হবে ঐতিহাসিক। পরে তিনি বলেন, সরকার অযোধ্যাকে বড় পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে দায়বদ্ধ।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক উচ্চপদস্থ অফিসার বলেন, যোগী মনে করেন, এতদিনে লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এবার দীপোৎসব করতে হবে। অযোধ্যায় দীপাবলীর মূল অনুষ্ঠানটি হবে ১৩ নভেম্বর। অযোধ্যা নগর প্রশাসন ওই দিন সরযূ নদীর ২৮ টি ঘাটে ৫ লক্ষ ৫১ হাজার দিয়া জ্বালাবে। আশা করা হচ্ছে, এর ফলে সৃষ্টি হবে বিশ্ব রেকর্ড। তা স্থান পাবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "৪৯২ বছর পরে এবার শ্রীরামজন্মভূমিতে আনন্দের প্রদীপ জ্বলে উঠবে।" অযোধ্যায় দীপোৎসবের জন্য যে আয়োজন হচ্ছে, ব্যক্তিগতভাবে তার ওপরে নজর রাখছেন যোগী। কোভিড ১৯ গাইডলাইন মেনেই এবার দীপোৎসব পালিত হবে।
যোগী গোবর দিয়ে নির্মিত প্রদীপ জ্বালানোর ওপরে এবার জোর দিয়েছেন। দীপোৎসবের দিন তিনি থাকবেন অযোধ্যায়। রামলালার পুজো দেবেন।
২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে রামমন্দিরের বিতর্কিত জমি নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দেয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ। সেই রায়ে বলা হয়, বিতর্কিত জমির উপর মন্দির নির্মাণ হবে। এই কাজের জন্য সরকারকে একটি ট্রাস্ট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া অযোধ্যাতেই মুসলিমদের মসজিদ নির্মাণের জন্য ৫ একর জমির বন্দোবস্ত করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে।
২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগেই অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রাম জন্মভূমি ন্যাসের কার্যকরী সভাপতি রামবিলাস বেদান্তি। ইন্দোরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার এই ট্রাস্ট (রামমন্দির ট্রাস্ট) গড়ার পরে মন্দির নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আমার মনে হয় ২০২৪ সালের ভোটের আগে মন্দিরের মূল কাঠামো তৈরি হয়ে যাবে।”
তিনি বলেন, “শ্রীরামচন্দ্রের জন্মভূমিতে ৬৭ একর জমির উপরে তৈরি হতে চলা মন্দিরটি বিশ্বের বৃহত্তম মন্দির হতে চলেছে ফলে এই জায়গাটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রও হতে চলেছে।”
এক সময় বিজেপির সাংসদ ছিলেন বেদান্তি। তিনি মনে করেন, “যদি সম্ভব হয় তা হলে এই মন্দির তৈরর জন্য আরও জমি অধিগ্রহণ করতে পারে সরকার।” তিনি জানিয়েছেন, সন্তদের ইচ্ছা অনুযায়ী এই মন্দিরের উচ্চতা ১,১১১ ফুট হতে পারে।
বেদান্তি বলেন, “এই মন্দির এতটাই উঁচু হবে যে সেটি ইসলামাবাদ, কলম্বো ও কাঠমাণ্ডু থেকেও দেখা যাবে। আমাদের ইচ্ছার সঙ্গে সুর মিলিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়ে দিয়েছেন যে মন্দির হবে আকাশছোঁয়া।” পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ, শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো এবং নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু।