দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ৫ জুন গাজিয়াবাদে আবদুল সামাদ নামে এক ব্যক্তিকে জোর করে 'জয় শ্রীরাম' ও 'বন্দেমাতরম্' বলানো হয়। সেই সঙ্গে তাঁর দাড়িও কেটে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় দেশ জুড়ে। সাম্প্রদায়িক কারণেই ওই বৃদ্ধের ওপরে হামলা হয়েছে বলে সকলের ধারণা হয়। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বক্তব্য, ওই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনও সম্পর্ক নেই। আবদুল সামাদ তাবিজ বিক্রি করতেন। তাঁর কয়েকজন খদ্দেরের ধারণা হয়, তাবিজগুলি যথাযথ কাজ করছে না। তাই তাঁর ওপরে তারা হামলা করে। কিন্তু বুধবার আবদুল সামাদের পরিবার দাবি করেছে, তিনি কখনই তাবিজ বিক্রি করতেন না।
ওই বৃদ্ধকে মারধর করার ঘটনা নিয়ে টুইটারে পোস্ট করার জন্য আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তাঁদের মধ্যে আছেন কয়েকজন সাংবাদিক ও কংগ্রেস নেতা। অভিযোগ, তাঁরা সাম্প্রদায়িক ভাবাবেগে উস্কানি দিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য, আবদুল সামাদের ওপরে আক্রমণ করেছিল মোট ছ'জন। তাদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের লোকই ছিল। তাদের সকলকেই আবদুল সামাদ চিনতেন। দুই সাংবাদিক রানা আয়ুব ও সাবা নাকভি এবং কংগ্রেস নেতা সলমন নিজামি, শামা মহম্মদ এবং মাসকুর উসমানি ওই ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর টুইট করেছেন। সেই টুইটগুলি হাজার হাজার বার রি-টুইট হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশ টুইটারের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে। অভিযোগ, গত সোমবার গাজিয়াবাদের ঘটনা নিয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানানোর পরেও টুইটার বিতর্কিত পোস্টগুলির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
আবদুল সামাদের ছেলে বাবুল সইফি এদিন বলেন, "পুলিশ ভুল বলছে। আমাদের পরিবারের কেউ তাবিজ বিক্রি করে না। আমরা কাঠের মিস্ত্রি। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক আমি ঠিক বলছি কিনা।" পরে তিনি বলেন, "আমরা ৬ জুন লোনি থানায় এফআইআর করেছিলাম। ৫ জুন আমার বাবাকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। তাঁর দাড়িও কেটে নেওয়া হয়।"
গাজিপুর পুলিশের অফিসার ইরাজ রাজা এক ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, ওই বৃদ্ধকে মারধরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, ৫ জুন আবদুল সামাদ হাজিপুর গ্রামে গিয়েছিলেন। তিনি তাবিজ তৈরি করতেন। অভিযুক্তরা তাঁর পরিচিত। তারাই তাঁকে হাজিপুরে ডেকে পাঠিয়েছিল। কারণ তাদের ধারণা হয়েছিল, তাবিজ ঠিকমতো কাজ করছে না।