দ্য ওয়াল ব্যুরো: চন্দ্রাভিযানের প্রথম পর্ব শেষ হতে চলল। আজ থেকে শুরু দ্বিতীয়।
শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্রের দ্বিতীয় লঞ্চপ্যাডকে গুডবাই জানিয়েছিল ২২ জুলাই। এক মাসের মাথায় ২০ অগস্ট পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের মায়া কাটিয়ে ঢুকে গিয়ছিল লুনার অরবিট অর্থাৎ চাঁদের কক্ষপথে। একটার পর একটা কক্ষপথের বেড়াজাল কাটিয়ে ভারতের চন্দ্রাভিযান আজ, সোমবার সাফল্যের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখতে চলেছে। ৪৩ দিনের মাথায় আজই ল্যান্ডার ‘বিক্রম’কে নিজের থেকে আলাদা করে দেবে চন্দ্রযান ২। পেটের ভিতর রোভার ‘প্রজ্ঞান’কে পুরে সে এগিয়ে যাবে চাঁদের আরও কাছাকাছি।
‘প্রতীক্ষার আরও কঠিন প্রহর শুরু হল’, জানিয়েছে ইসরো। চন্দ্রযানের অবস্থান এখন চাঁদের পঞ্চম কক্ষপথে। উপবৃত্তাকার এই কক্ষপথ থেকে চাঁদের দূরত্ব ১২৭ কিলোমিটার ও ১১৯ কিলোমিটার। সেই পথে ঘূর্ণন শেষ সীমায় পৌঁছবে আজ দুপুরের মধ্যেই। বেলা ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ফের শুরু হবে কাউন্টডাউন। নির্ধারিত সময় বেলা ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। তার মধ্যেই ধীরে ধীরে ল্যান্ডার বিক্রমকে ইজেক্ট করবে চন্দ্রযান। রোভারকে বয়ে নিয়ে পঞ্চম কক্ষে ঘুরতে ঘুরতে চাঁদ থেকে দূরত্ব ক্রমশ কমিয়ে আনবে বিক্রম। চাঁদের মাটি থেকে ১০০ কিলোমিটার উপরে থাকতে বিক্রমের গতি কমবে ধীরে ধীরে। চাঁদের ঘূর্ণন গতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে দক্ষিণ মেরুর দিকে আস্তে আস্তে পা বাড়াবে বিক্রম। ৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৫মিনিটে (ইংরাজি তারিখের হিসেবে ৭ সেপ্টেম্বর) পালকের মতো চাঁদের মাটিতে নামবে সে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ‘ম্যানজিয়াস-সি’ এবং ‘সিম্পেলিয়াস-এন’ ক্রেটারের মাঝের সমতলভূমিতে ধীরে ধীরে পা রাখবে (সফট ল্যান্ডিং) ল্যান্ডার বিক্রম। ভারতের চন্দ্রযাত্রার ইতিহাসে শুরু হবে এক নতুন অধ্যায়।
লুনার অরবিটে যে যে পথে এগিয়ে গেছে চন্দ্রযান..
২০ অগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে লিকুইড চেম্বার ইজেক্ট করে চাঁদের প্রথম কক্ষপথ ১৮০৭৮ কিলোমিটারে ইনসারশন হয়েছিল চন্দ্রযান ২-এর। সময় লেগেছিল ১৭৩৮ সেকেন্ড।
পরদিন ২১ অগস্ট, বেলা ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ ১১৪ কিলোমিটার*১৮০৭২ কিলোমিটার প্রথম কক্ষপথ ছেড়ে পা রাখে ১১৮ কিলোমিটার*৪৪১২ কিলোমিটার দ্বিতীয় কক্ষপথে। এই সফরে সময় লেগেছিল ১২২৮ সেকেন্ড।

২৮ অগস্ট সকাল ৯টা ৪ মিনিটে হই হই করে চাঁদের তৃতীয় কক্ষপথে ঢুকে পড়ে চন্দ্রযান ২। তৃতীয় কক্ষের ১৭৯*১৪১২ কিলোমিটার পরিধিতে সফল ইনসারশনে সময় লাগে ১,১৯০ সেকেন্ড।
৩০ অগস্ট, সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে চাঁদের উপবৃত্তাকার তৃতীয় কক্ষপথ ছেড়ে বেরিয়ে যায় চন্দ্রযান। এগিয়ে যায় ১২৪*১৬৪ কিলোমিটার চতুর্থ কক্ষের দিকে।
হাই ফাইভ পূর্ণ করে গতকাল, ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ২১ মিনিটে। ঠিক ৫২ সেকেন্ডের মাথায় পাঁচ নম্বর কক্ষপথে নিখুঁত ভাবে ইনসারশন হয় চন্দ্রযানের। এটাই শেষ কক্ষপথ। এ বার চাঁদের মাটিতে নামার অপেক্ষা।
চন্দ্রাভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে কী কী হতে চলেছে..
বেলা ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে চন্দ্রযান থেকে আলাদা হবে ল্যান্ডার বিক্রম। সফট ল্যান্ডিংয়ের জন্য ছক সাজানো শুরু করবে সে। ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এবম ৪ সেপ্টেম্বর ভোররাত ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে দু’দফায় বিক্রমের পথ বদল করা হবে। কক্ষপথ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার এটি বিশেষ পক্রিয়া (deorbit manoeuvres) । এর পর শুরু হবে চাঁদকে ঘিরে পরিক্রমা।
[caption id="attachment_137987" align="aligncenter" width="624"]
ল্যান্ডার ‘বিক্রম’।[/caption]
চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে ৩ লক্ষ ৮২ হাজার কিলোমিটার দূরে। ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নামার আগে আরও চার দিন চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবে ল্যান্ডার। তার পর ধীরেসুস্থে নামবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে (৭০ ডিগ্রি অক্ষাংশ) । ইজেক্ট করবে ২৭ কেজি ওজনের ৬ চাকার রোভার ‘প্রজ্ঞান’কে। চাঁদের মাটিতে ঘুরে ঘুরে ছবি ও তথ্য পাঠাবে সে।
চাঁদের এক পক্ষকাল সময় অর্থাৎ ১৪ দিন ধরে কাজ করতে পারবে ‘বিক্রম।’ রোভারও সচল থাকবে ১৪ দিন ধরে। প্রতি বারে ১৫০-২০০ মিটার অবধি গুটি গুটি পায়ে এগোতে থাকবে সে। পরীক্ষামূলক ভাবে চাঁদের মাটি, তার রাসায়নিক উপাদানের কাটাছেঁড়া করতে পারবে। প্রতি ১৫-২০ মিনিট অন্তর অরবিটারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠাবে রোভার।