
শেষ আপডেট: 5 November 2018 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় ৬০ কোটি টাকা খরচ করে দক্ষিণেশ্বরে স্কাই ওয়াক হয়েছে। ভক্তরা চাইলে এ বার কালীঘাটেও তেমনই স্কাই ওয়াক তৈরি করে দিতে তিনি প্রস্তুত। এবং এ ক্ষেত্রে টাকার কোনও অভাব হবে না বলে সোমবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার কালীপুজো। তার আগে সোমবার দক্ষিণেশ্বরে স্কাই ওয়াকের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই এই ঘোষণা করেন তিনি। বলেন, "আমরা গরিব হতে পারি, কিন্তু দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাট সাজানোর কাজ আমরা নিজেরাই করতে পারি। দক্ষিণেশ্বরে ভোগ ঘর তৈরি হচ্ছে। বেলুড় মঠেও তৈরি হচ্ছে। মাঝেমাঝে ওরা (পড়ুন কেন্দ্র) আসে, পাঁচ-ছ'লাখ করে দিতে চায়। আমরা কি ভিখারি নাকি! নিজেরাই পারি এই সব কাজ করতে।"
দক্ষিণেশ্বর মন্দির এবং ৫১টি সতীপীঠের অন্যতম কালীঘাট মন্দিরে বছর ভর দর্শনার্থী ও ভক্তদের ভিড় লেগেই থাকে। অথচ দু’পাশের হকার ও ডালাওয়ালাদের দোকান যে ভাবে ফুটপাত উপচে রাস্তায় এসে পড়েছে তাতে ভক্তদের যাতায়াতে বেশ ঝক্কি পোহাতে হয়। সেই সমস্যা থেকেই এক সময়ে দক্ষিণেশ্বরে স্কাই ওয়াক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তার বাস্তবায়ন হতে না হতেই কালীঘাটে হাত দেওয়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই বার্তা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "শুধু কালীঘাট নয়, আমরা সারা রাজ্যে কোথাও-ই বাদ রাখিনি ভক্তদের সুবিধা দেখতে। তারকেশ্বর থেকে তারাপীঠ দেখে আসুন, একই জিনিস দেখবেন। গঙ্গাসাগরে গিয়ে দেখুন, আলো চকচক করছে। রাস্তা ঝকঝক করছে।"এক সময় কালীঘাট মন্দির চত্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচন কেন্দ্রের মধ্যে ছিল। তাঁর বাড়িও কালীঘাটে। মন্দির আর তাঁর বাড়ির মধ্যে দূরত্বের ফারাক নামমাত্র। ফলে কালীঘাট মন্দির নিয়ে তাঁর আবেগ ও নস্টালজিয়া স্বাভাবিক ভাবেই বেশি। অনেক সময়েই কাকপক্ষীকে টের পেতে না দিয়ে অনেক রাতে তিনি কালীঘাট মন্দিরে যান। ব্যক্তিগত ভাবে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও শক্তির পুজারী। গত চল্লিশ বছর ধরে বাড়িতে কালীপুজো করেন।
তবে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, সাধারণ মানুষের সুরাহার কথা ভেবেই কালীঘাটেও স্কাইওয়াক করা যেতে পারে। তাতে ভক্তদেরও সুবিধা হয়। আবার ডালাওয়ালা বা হকারদের উচ্ছেদ করারও দরকার হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাব শুনে কালীঘাট মন্দিরের প্রধান সেবাইত অঙ্কন হালদার বলেন, “ওঁর কথা শুনলাম। তিনি কী পরিকল্পনা করেছেন তা এখনও পরিষ্কার জানি না। সবটা জানলে বুঝতে পারব, কতটা কী সুবিধা হবে। তার পরেই যা বলার বলব।”
তবে স্কাই ওয়াক নির্মাণ করে ভক্তদের সুবিধা করে দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এ দিন হকারদেরও সুশৃঙ্খল হওয়ার কথা বলেন। মন্দির চত্বর অপরিষ্কার থাকা নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, দক্ষিণেশ্বরের মন্দির চত্বর পরিষ্কার রাখতে কামারহাটি পুরসভাকেও দায়িত্ব নিতে হবে। এ দিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও মঞ্চে ছিলেন পুর মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বক্তৃতার মধ্যেই তাঁর দিকে তাকিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ববি তুমি দেখো, কামারহাটি পুরসভাকে দিয়ে ৫০ জন একশো দিনের শ্রমিক নিয়োগ করার ব্যবস্থা করো। যাঁরা মন্দির চত্বর পরিষ্কার রাখবেন।" তা ছাড়া যে সব হকার তাঁদের দোকানঘর ও তার আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবে তাঁদের জন্য বছরে একটি পুরস্কারের ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণেশ্বরের মন্দির কর্তৃপক্ষকে তিনি বলেন, তাঁরা যেন সেই পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।