.webp)
Bankura
শেষ আপডেট: 12 March 2024 23:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর বত্রিশের সুশোভন দে। বাঁকুড়ার লালবাজার এলাকার কামলিপাড়ার বাসিন্দা। এলাকার তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে বাসে করে গত রবিবার হাজির হয়েছিলেন কলকাতায়, তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশে।
সভা সেরে এলাকার মানুষজনকে নিয়ে বাঁকুড়ায় ফিরেছিল বাস। কিন্তু সুশোভন ঘরে ফেরেনি। এমনকী তাঁর জন্য সভা শেষে বাঁকুড়ার বাস বেশ কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষাও করেছিল। লক্ষ মানুষের ভিড়ে খোঁজ মেলেনি সুশোভনের। অগত্যা, তাঁকে ছাড়াই বাকিদের নিয়ে লাল পাহাড়ির দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল বাস।
এদিকে ঘরের ছেলে ঘরে না ফেরায় দে পরিবারে নেমে আসে চরম উৎকণ্ঠা। দলের তরফেও খোঁজ খবর শুরু হয়েছিল। অবশেষে মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ স্টেশন থেকে অটোয় চেপে সুশোভন বাড়ি ফিরেছেন। উদ্বেগের অবসান হলেও সকলের মনেই কৌতূহল, এই দু'দিন কোথায় ছিল সে!
সুশোভনের ভাই তুফান উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর আরও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পাননি। স্থানীয় একটি পাইকারি খেলনার দোকানে কাজ করে কোনওমতে সংসার চালান। বাড়িতে রয়েছেন মা।
মঙ্গলবার রাতে টেলিফোনে দ্য ওয়ালকে তুফান জানান, "অভাবের সংসার। দাদার একটু মানসিক সমস্যা আছে। সেভাবে কাজকর্ম করতে পারে না। তবে পার্টি থেকে আমাদের বাড়ি করে দিয়েছে। আপদে, বিপদে সাহায্যও করে। তাই কৃতজ্ঞতার জায়গা থেকে আমরা তৃণমূল করি। সেকারণেই অন্য তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে দাদাকেও ব্রিগেডে পাঠিয়েছিলাম।"
তুফানের কথায়, ব্রিগেডে য়াওয়ার পর জেলার কর্মীদের সঙ্গেই ছিলেন দাদা। পরে কোনওভাবে দলছুট হয়ে যান। দাদা বলছে, বাস মিস করে স্থানীয় পুলিশের সাহায্যে রবিবার রাতের দিকে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছয়। ভুল ট্রেনে উঠে এদিক ওদিক চলে গিয়েছিল। পরে আবার হাওড়াতেই ফেরে। মঙ্গলবার বিকেলে কেউ একজন ওকে হাওড়া থেকে পুরুলিয়া এক্সপ্রেসে চাপিয়ে দিয়েছিলেন। তাতে করেই রাত সাড়ে আটটা নাগাদ বাঁকুড়া স্টেশনে নামে। তারপর অটোয় করে বাড়ি।
তুফানের কথায়, "দাদা সবটা ঠিক করে গুছিয়ে বলতে পারছে না। আশাকরি, ধীরে ধীরে সবটা জানতে পারব। তবে ও বাড়ি ফিরে এসেছে এতেই আমরা খুশি। মা তো দু'দিন কিছু মুখে তোলেনি।"
খানিক থেমে টেলিফোনের ওপার থেকে তুফানের সংযোজন, "নাক-কান মুলছি, দাদাকে একা একা আর বাইরে কোথাও ছাড়ব না।"