
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 17 February 2025 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যেন হাজিরা খাতায় সই করলেই সব দায়িত্ব মিটে গেল! বিধানসভায় শাসকদল তৃণমূলের বিধায়কের সংখ্যা ২২০-র বেশি। অথচ এর মধ্যে শতাধিক বিধায়ক রয়েছেন, যাদের বিধানসভার অলিন্দে কখনও কোনও বিষয়ের আলোচনায় অংশ নিতে দেখা যায়নি।
সম্প্রতি পরিষদীয় দলের বৈঠকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী নীরব বিধায়কদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলেও দলীয় সূত্রে শোনা যাচ্ছিল। তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফেও সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের সতর্ক করা হয়েছিল। তারই ফল স্বরূপ, রাজ্যপালের ভাষনের উপর সোমবার আলোচনায় অংশ নিতে দেখা গেল এমন ৯ জন তৃণমূল বিধায়ককে, যাদের অতীতে কখনও বিধানসভায় বক্তৃতা রাখতে দেখা যায়নি।
এদের মধ্যে কয়েকজন সদ্য জয়ী বিধায়কও যেমন রয়েছেন তেমন রয়েছেন অনেক পুরনো বিধায়কও। তালিকায় নাম রয়েছে বিজেপি থেকে তৃণমূলে আসা বিধায়কেরও।
কারা কারা? বিধানসভা সূত্রের খবর, এরা হলেন, নৈহাটির সনৎ দে, তালডাংড়ার ফাল্গুনী সিংহ বাবু, মধুপর্ণা ঠাকুর, করবী মান্না, অরিন্দম গুঁইন এবং বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা মুকুটমনি অধিকারী। এছাড়াও নাম রয়েছে শেখ রবিউল ইসলাম, সঙ্গীতা রায় এবং মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরার।
স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত শাসক' শিবিরের শীর্ষ নেতারা। একান্ত আলাপচারিতায় রসিকতার সুরে তাঁরা বলছেন, 'দিদিমনি কড়া হতেই বাধ্য ছাত্রর মতো বিধায়করা পড়া বলতে শুরু করেছেন'!
বাজেট অধিবেশনের আগে পরিষদীয় দলের বৈঠকে এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা গিয়েছিল, এতজন বিধায়ক, অথচ অনেকে বিধানসভায় কোনওদিন কোনও বিষয়ে আলোচনাতে অংশই নেননি। এটা কেন হবে?
এরপরই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা ছিল, বিধায়ককে যেমন নিজের এলাকার উন্নয়নে সক্রিয় থাকতে হবে একইভাবে বিধানসভাতেও সক্রিয় থাকা জরুরি। না হলে বহুক্ষেত্রে বিরোধীদের মোকাবিলায় হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া বাকি বিধায়কদের পাওয়া যায় না।
দলের এক প্রবীণ বিধায়কের কথায়, "অনেকেই কী বলব, বলতে গিয়ে যদি ভুল হয়ে যায়, এসব ভেবে বছরের পর বছর বিধানসভার মধ্যে মুখই খোলেননি। মুখ্যমন্ত্রী এই ধারার বদল এনতে চেয়েছিলেন। অবশেষে সেই প্রক্রিয়া শুরু হল।"
সূত্রের খবর, ওই ৯জন বিধায়কের দেখাদেখি আরও অনেক বিধায়ক বক্তব্য রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে কারা কারা এখনও নিস্ক্রিয়, তাদের নজরে রাখছে দল। প্রয়োজনে পরিষদীয় দলের প্রশ্নের মুখেও পড়তে পারেন তাঁরা।