দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের সমস্ত জোগাড়যন্ত্র সারা। বুক হয়ে গিয়েছে বিলাসবহুল একটি ভেন্যু, ঠিক হয়ে গিয়েছে মেনুও। সাজপোশাক তো বটেই, নিমন্ত্রণও সারা। এমনকী বিয়ের মণ্ডপ সাজানোও শেষের মুখে। বাকি শুধু বিয়েটা হতে। স্বাভাবিক ভাবেই বেশ ফুর্তি নিয়ে জীবনের বিশেষ দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলেন টেক্সাসের তরুণী, বছর চব্বিশের কোলবি স্যান্ডার্স। কিন্তু প্রস্তুতি আর অপেক্ষা অনেক সময়েই শেষমেশ হাত মেলায় না বাস্তবের সঙ্গে। কোলবির ক্ষেত্রেও তেমন হল। ভেঙে গেল বিয়েটা। ভেঙে গেল মনও।
কিন্তু মন ভাঙলেও, মস্তিষ্ক তো সচল! তাই তাঁর মনে হল, সাড়ে তিন হাজার মার্কিন ডলার দিয়ে বুক করা জায়গা, এত আয়োজন... এই সবই ভেঙে যাবে বিয়ের ভেঙে যাওয়ার কারণে! কভি নেহি! তাই গোটা আয়োজনকেই 'ডোনেট' করে দেবেন বলে ঠিক করলেন কোলবি। কিন্তু এ তো আর সামান্য জিনিস নয়, যে চাইলেই কাউকে ডেকে টুক করে দিয়ে দেওয়া যাবে। এ আয়োজন তো কেবল তাঁদেরই কাজে লাগবে, যাঁদের বিয়ে ঠিক হয়েছে। অর্থাৎ কোলবির বিয়ের মণ্ডপে একই দিনে বিয়ে করতে হবে অন্য কোনও যুগলকে।
কী ভাবে মিলবে তেমন যুগলের খোঁজ? সমাধান করল সোশ্যাল মিডিয়া। সেখানেই নিজের এই আইডিয়ার কথা লিখে, সমস্ত আয়োজনের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে পোস্ট করলেন কোলবি। ওই নির্দিষ্ট তারিখে বিয়ের জন্য প্রস্তুত এমন যুগলদের আবেদন জানাতে বললেন। তবে এই ফেসবুক পোস্ট যে এমন সাড়া ফেলবে, ভাবতেও পারেননি কোলবি।
কোলবির সেই ফেসবুক পোস্ট।
https://www.facebook.com/kolbie.sanders/posts/2263796846995260
আবেদনের বন্যা বয়ে গেল! শয়ে শয়ে যুগল জানালেন, তাঁরা ওই তারিখে ওই জায়গায় বিয়ে করতে চান। এবার উপায়! লটারি করা ছাড়া অন্য পথ ছিল না আর। যাঁরা যাঁরা আবেদন করেছেন, সক্কলের নাম কাগজে লিখে, কাগজগুলো বড় পাত্রে রেখে, চোখ বুজে তুলে নিলেন একটা নাম। ব্যস, বিয়ের সমস্ত আয়োজন এক্কেবারে হাতেগরম পেয়ে যাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করলেন হ্যালি হিপশার নামের এক তরুণী। ঘটনাচক্রে, তিনি আবার কোলবির বাড়ির খুব কাছেই থাকেন।
তাই ধুমধাম করে বহু দিনের পুরনো সঙ্গী ম্যাট জোন্সের সঙ্গে ২০ তারিখে বিয়েটা সেরেই ফেললেন বাইশ বছরের হ্যালি। আর সেই বিয়েতে দিব্যি নেমন্তন্ন খেলেন কোলবিও। কোলবি জানালেন, "এটা যে আমার খুব ভেবেচিন্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত, তা নয়। সেই মুহূর্তে নিজে থেকেই এটা মনে হয়েছিল। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই। মনে হয়েছিল, এত আয়োজন কারও কাজে লাগুক। তাই যে মুহূর্তে বিয়ে ভেঙে গেল, আমি তখনই আয়োজকদের ফোন করি। জানতে চাই, একই মণ্ডপে অন্য পাত্রপাত্রীর বিয়ে হলে কোনও অসুবিধা হবে কি না। ওঁরা প্রথমে হকচকিয়ে গেলেও, মেনে নেন।"
হ্যালির বিয়ের আনন্দও ফেসবুকে ভাগ করে নিয়েছেন কোলবি।
https://www.facebook.com/kolbie.sanders/posts/2277107442330867
তবে কোলবির ওই অভিনব সিদ্ধান্তে পাশে থেকেছে পরিবারও। মেয়ের বিয়ে ভাঙার অস্বস্তি ও দুঃখ যতই থাক, অন্য এক মেয়ের বিয়েতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে দিকেও নজর রেখেছেন তাঁরা। আর এই অভিনব ঘটনা ঘটানোর পরেই রাতারাতি সেলিব্রিটি হয়ে গিয়েছেন কোলবি। সারা পৃথিবীর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এক রকম মাটি নিয়ে নিয়েছে বাড়ির। সাক্ষাৎকার দিতে দিতে কার্যত গলা ভেঙে ফেলেছেন কোলবি। তবু উৎসাহের অন্ত নেই। হ্যালির বিয়ের অসংখ্য ছবি আর ভিডিও দিয়েই ভর্তি কোলবির ফেসবুকের টাইমলাইন।
[caption id="attachment_44981" align="aligncenter" width="960"]

দাদুর সঙ্গে হ্যালি ও কোলবি।[/caption]
অন্য দিকে, হ্যালিও কৃতজ্ঞ কোলবির কাছে। কারণ হ্যালির বৃদ্ধ দাদু স্টেজ ফোর প্যাংক্রিয়াস ক্যানসারে আক্রান্ত, একেবারেই শয্যাশায়ী। চিকিৎসক জবাব দিয়ে দিয়েছেন। হ্যালির পরিবার খুবই চেয়েছিল, এই বৃদ্ধ মানুষটি নাতনির বিয়েতে উপস্থিত থাকুন। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি বিয়ের আয়োজন সারা সম্ভব ছিল না হ্যালির পক্ষে। তাই এই রেডিমেড আয়োজন বিনামূল্যে হাতে পেয়ে যাওয়া যেন তাঁদের কাছে আকাশের চাঁদ পাওয়ার মতোই ছিল!
হ্যালি অবশ্য কোলবির পাশাপাশি কৃতজ্ঞ নিজের বোনের কাছেও। কারণ বোনই তো কোলবির সেই ফেসবুক পোস্টটা দিদিকে দেখিয়েছিল! ভাগ্যিস!