দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনসেফেলাইটিসের প্রভাব পড়ল ব্যবসা-বাণিজ্যতেও। সীমান্ত এলাকায় বিহার থেকে আসা কাঁচা আনাজ ও ফল বোঝাই সমস্ত ট্রাকে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিল নেপাল। নিরাপত্তার ফাঁক গলে কোনও ট্রাক বা গরুর গাড়ি যাতে নেপালে ঢুকতে না পারে তার জন্য সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি রেখেছেন শুল্ক দফতরের অফিসাররা।
একদিতে তাপপ্রবাহ, অন্য়দিকে অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস সিনড্রোমের প্রকোপ—জোড়া ফলায় কার্যত বিধ্বস্ত বিহার।মুজফফরপুরে অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস সিনড্রোম (এইএস), স্থানীয় ভাষায় ‘চমকি বুখার’-এর প্রকোপ কমার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। সব সব মিলিয়ে গোটা রাজ্যে ইতিমধ্যেই ১৪৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শয়ে শয়ে শিশু মৃত্যুতে এমনিতেই উদ্বিগ্ন প্রশাস, এর উপর ব্যবসার ক্ষেত্রে নেপাল সরকারের কড়াকড়িতে সেই চিন্তার পারদ বেড়েছে আরও কয়েক ডিগ্রি।
সূত্রের খবর, গত ছ'দিনে শতাধিক আনাজ ও ফল বোঝাই ট্রাক নেপাল সীমান্তের বীরগঞ্জের কাছে দাঁড়িয়ে। চেক পোস্ট ঘিরে রেখেছেন শুল্ক দফতরের আধিকারিকরা। আনাজপাতি বা ফল সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ বা ভাইরাস মুক্ত প্রমাণ করতে পারলে তবেই মিলবে ভিতরে প্রবেশের ছাড়পত্র।
এনসেফেলাইটিসের জেরে ব্যবসা লাটে ওঠায় রীতিমতো চিন্তিত আনাজ ব্যবসায়ীরা। ট্রাকে করে নিত্য আনাজপাতি ও ফল নেপালে পৌঁছে দেন রামপ্রীত রাই। বলেছেন, "নেপালি শুল্ক আধিকারিকরা জানিয়েছেন আনাজ ও ফল শুদ্ধ, এমন নথি দেখাতে পারলে ঢুকতে দেওয়া হবে। আমাদের সকলকেই সীমান্ত থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাছাকাছি শহর রাক্সৌলে অপেক্ষা করছি আমরা।"
বিহারশরিফের বাসিন্দা রতি লালের কথায়, "আম, কলার মতো ফল পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নেপালে ঢুকতে না দেওয়ায় কাছাকাছি এলাকাতেই নামমাত্র দামে সেগুলো বেচে দিচ্ছি। খুব ক্ষতি হচ্ছে আমাদের।"
এনসেফেলাইটিস রোগের কারণ নিয়ে যেমন তৈরি হয়েছে সংশয়, তেমনি অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসা ব্যবস্থা গাফিলতিরও। কেন এত মৃত্যু? বিশেষজ্ঞরা বলছেন ‘অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস সিনড্রোম,’ সরকারি সূত্র বলছে, লিচুর টক্সিন। তার থেকে ‘ব্রেন ফিভার’। স্থানীয়রা বলছেন ‘চামকি বুখার’, বিক্ষোভকারীদের দাবি, রোগের কারণ নির্ণয় তো দূরে থাক, সরকারি হাসপাতালগুলোতে পরিষেবাই অমিল। কাজেই বেড়ে চলেছে একের পর এক মৃত্যু। সেই সঙ্গে উঠে এসেছে অপুষ্টি ও তাপপ্রবাহের কারণও।

জুনের প্রথমেই বিহারের নানা প্রান্ত থেকে একটি, দু’টি করে শিশু মৃত্যুর খবর মেলে। বর্তমানে সেটাই মহামারীর আকার নিয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুরা যে রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, তার নাম- ‘অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস সিনড্রোম (এইএস)’। রোগাক্রান্তদের সকলেরই উপসর্গ অনেকটাই এক। রক্তে শর্করার মাত্রা তলানিতে, মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত সমস্যা (Brain Inflammation)। এখনও পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মুজফফরপুরের শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে তিনশোরও বেশি শিশু।
সীমা জাগরণ মঞ্চের রাজ্য প্রধান মহেশ আগরওয়াল বলেছেন, খাদ্য সুরক্ষা দফতরের উচিত বিশেষজ্ঞদের চেক পোস্টে পাঠানো। ফল বা আনাজ সংক্রমণ মুক্ত কি না সেটা নির্ধারণ করে তাঁরাই সার্টিফিকেট দিয়ে দেবেন। খুব দ্রুত এই পদ্ধতি চালু না হলে ছোট ব্যবসায়ীরা চরম বিপদের মুখে পড়বেন।