
শেষ আপডেট: 13 February 2024 11:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার পদ্মা নদীতে বাংলাদেশের রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ থেকে মুর্শিদাবাদের লালগোলার মায়া নৌপথে পণ্য পরিবহণ শুরু হল। প্রথম দিন দুই দেশ থেকেই মালপত্র বোঝাই নৌকা আর এক প্রান্তের উদ্দেশে যাত্রা করে। রাজশাহী প্রান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নৌ-পথের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং রাজশাহীর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং ওই শহরে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার।
১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এই পথে বাণিজ্য এবং যাত্রী চলাচল চালু ছিল। ওই বছর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আগ পর্যন্ত সুলতানগঞ্জ-মায়া ও গোদাগাড়ী-ভারতের লালগোলা নৌঘাটের মধ্যে নৌপথে মূলত নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী আনা নেওয়া চলত। পরে রুটটি বন্ধ হয়ে যায়।
সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নৌ পথটি চালু হওয়ায় রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ ঘাট এবং মুর্শিদাবাদের লালগোলা আন্তর্জাতিক নদী বন্দরের মর্যাদা পেল। এরফলে দুই দেশেরই পণ্য আমদানি-রফতানির খরচ কমে যাবে।
রাজশাহীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের। হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা।
ফলে উপকৃত হবেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা। উপকৃত হবে দুই সরকারও। বাংলাদেশ তাদের রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের জন্য ভারতের ঝাড়খণ্ড থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর আমদানি করবে। যা কলকাতা বন্দর হয়ে যাওয়ায় কথা ছিল। সোমবার চালু হওয়া নৌপথেই কম খরচ ও অল্প সময়ে সেই পাথর রূপপুরে পৌঁছে যাবে।
জানা গিয়েছে, সুলতানগঞ্জ থেকে মায়া নৌঘাটের নদীপথে দূরত্ব মাত্র ১৭ কিলোমিটার। সুলতানগঞ্জ নৌঘাটটি রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক থেকে এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সারা বছর সুলতানগঞ্জের ওই পয়েন্টে পর্যাপ্ত জল থাকে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মায়া নৌঘাটটি মুর্শিদাবাদ জেলায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সুলতানগঞ্জ-মায়া পথে নৌবাণিজ্য শুরু হওয়ায় পরিবহন খরচ অনেকাংশে কমে যাবে। এতে রাজশাহী ও মুর্শিদাবাদের অর্থনীতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, এই নৌ-পথ নতুন করে চালু হওয়ায় কৃতিত্ব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের নরেন্দ্র মোদীর। তিনি বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রী থমকে থাকা যোগাযোগ ব্যবস্থা নতুন করে চালু করছেন।