দ্য ওয়াল ব্যুরো : হরিয়ানা, রাজস্থান, গুজরাত ও মণিপুর। কোভিড রুখতে এই চার রাজ্যে ইতিমধ্যেই বিশেষ টিম পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর অন্যান্য রাজ্যেও যেভাবে অতিমহামারী ছড়াচ্ছে, সেখানেও বিশেষ টিম পাঠানোর কথা ভাবছে মোদী সরকার। শুক্রবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় পাঁচটি রাজ্যে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ ওই রোগে সংক্রমিত হয়েছেন। রাজ্যগুলি হল, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, কেরল, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থান।
এদিন জানা যায়, ভারতে করোনা রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯০ লক্ষ। সবচেয়ে বেশি কোভিড সংক্রমণ হওয়া দেশগুলির মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত। এদেশে অতিমহামারীতে মারা গিয়েছেন ১ লক্ষ ৩২ হাজার মানুষ। ৪৭ দিন বাদে বৃহস্পতিবার দেশে যতজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন, আক্রান্ত হয়েছেন তার থেকে বেশি। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫৮৮২ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪৪৮০৭ জন। আক্রান্তদের সংখ্যার বিচারে দেশে শীর্ষে আছে মহারাষ্ট্র। সেখানে কোভিড সংক্রমিত হয়েছেন ১৭ লক্ষ ৬৩ হাজার জন। এছাড়া যে রাজ্যগুলিতে বড় সংখ্যক মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, তার মধ্যে আছে কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং কেরল।
গত ২৪ ঘণ্টায় কর্নাটকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮,৬৭,৭৮০। মৃত্যু হয়েছে ১১,৬০৪ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৮,৩০,৯৮৮ জন। কর্নাটকে অ্যাকটিভ কেস ২৫,১৮৮।
অন্ধ্রপ্রদেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮,৫৮,৭১১ জন। সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৬৯১০ জনের। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৮,৩৫,৮০১ জন। অন্ধ্রপ্রদেশে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ১৬,০০০।
তামিলনাড়ুতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৬৪,৯৮৯। কোভিড সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ১১,৫৫০ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭,৩৯,৫৩২ জন। তামিলনাড়ুতে অ্যাকটিভ কেস ১৩,৯০৭।
উত্তরপ্রদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫,১৯,১৪৮। সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৭৪৮০ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৪,৮৮,৯১১ জন। উত্তরপ্রদেশে অ্যাকটিভ কেস ২২,৭৫৭।
দিল্লিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫,১০,৬৩০। সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৮০৪১ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪,৫৯,৩৬৮ জন। রাজধানী শহরে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৪৩,২২১।
সম্ভবত আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই এসে যেতে চলেছে অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড। সব ঠিক থাকলে, প্রথমে বয়স্ক মানুষ ও তার পরে স্বাস্থ্যকর্মীদের দেওয়ার পরে এপ্রিল মাসের মধ্যে সাধারণ মানুষ পেয়ে যাবেন টিকা। পুনের ‘সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া’ সংস্থার সিইও আদর পুনাওয়ালা জানান, এই ভ্যাকসিনের দাম ভারতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে হবে। অর্থাৎ দুটো ডোজ মোটামুটি হাজার টাকা দাম পড়বে।
বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে পুনাওয়ালা বলেছেন, ২০২১ সালের প্রথম দিকেই অক্সফোর্ডের কোভিড ভ্যাকসিনের ৩০ থেকে ৪০ কোটি ডোজ চলে আসবে ভারতে।
এই কথার সঙ্গেই পুনাওয়ালা জানান, সাধারণ মানুষকে এই ভ্যাকসিনের জন্য ৫০০-৬০০ টাকা দিতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, এই ভ্যাকসিন সস্তা দামেই দেওয়া হবে ভারত সরকারকে, ভারতই তাঁদের অগ্রাধিকার। পুনাওয়ালা বলেন, ভ্যাকসিনটি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যেতে পারে।