
শেষ আপডেট: 19 November 2022 03:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই প্রথম নয়। সম্পর্কের গোড়া থেকেই শ্রদ্ধার (Shraddha Walker) উপর আফতাব রীতিমতো অত্যাচার চালাত, মারধর করত। এমনকি এর আগেও বেশ কয়েকবার শ্রদ্ধাকে গলা টিপে খুন করারও চেষ্টা করেছিল আফতাব। দু'বছর ধরে শ্রদ্ধার বন্ধুরা চেয়েছেন আফতাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে। কিন্তু শ্রদ্ধা নিজেই তাতে বাধা দিয়েছেন। বলেছেন, 'সম্পর্কে থাকতে গেলে, এমন ঘটনা ঘটেই থাকে। এই নিয়ে এত ভাবার প্রয়োজন নেই!'
কেন? দিল্লির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, যত তথ্য সামনে আসছে, তত যেন এই 'কেন' প্রশ্নটাই উঠে আসছে সকলের থেকে। এতদিন ধরে এত অপমান, অত্যাচারের পরেও কেউ প্রেমিকের সঙ্গে থাকে! এমনকি তার সঙ্গে থাকবে বলে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে অন্য শহরে এসে ঘর ভাড়া নেয়!
শ্রদ্ধার বন্ধুদের একের পর এক জেরা করছে দিল্লি পুলিশ। তাতেই সামনে আসছে এই 'টক্সিক' সম্পর্কের অন্ধকারতম অধ্যায়।
শ্রদ্ধার সঙ্গে ২ বছরের বন্ধুত্ব রাহুল রাইয়ের। মুম্বইয়ের একই কল সেন্টারে কাজ করতেন তাঁরা একসঙ্গে। পুলিশকে তিনি বয়ান দিয়েছেন, '২০২০ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আমাদেরই এক বন্ধুকে মেসেজ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছিল, জরুরি সাহায্য চায় ওর। আমি তখন বন্ধুর থেকে জেনে ওর বাড়িতেও গিয়েছিলাম। ওর গলায়, মুখে, পিঠে কালশিটে পড়ে গেছিল। গলার দাগ দেখে আমার দেখে মনে হয়েছিল, কেউ গলা টেপার চেষ্টা করেছে ওর। আমি সেদিনই ওকে নিয়ে থানায় যাই, নন-কগনিজেবেল অফেন্সের অভিযোগ দায়ের করাই। আমাদের আরেক বন্ধু ওকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল চিকিৎসার জন্য।'
পরে শ্রদ্ধা বন্ধুদের জানিয়েওছিলেন, সেদিন আফতাবই তার গলা টিপে ধরে। এর আগেও সে একাধিকবার করেছে এই কাজ। 'কিন্তু আমি ওকে শেষবার আরেকটা সুযোগ দিতে চাই'-- এমনটাই বলেছিলেন শ্রদ্ধা, জানিয়েছেন রাহুল। তিনি বলেন, 'পুলিশকে কোনও পদক্ষেপ করতেও বারণ করেছিল শ্রদ্ধা নিজেই। বলেছিল, ও চায় না পুলিশ আফতাবকে আটক করুক। সম্পর্কে তো এমনটা হয়েই থাকে, এটাই বলত সবসময়।'
এভাবে বারবার 'প্রেমিক'কে ক্ষমা করে দিয়ে সম্পর্ক বাঁচাতে চাওয়ার পরিণতি যে এমনটা হবে, তা শ্রদ্ধা ২ বছর ধরেও বুঝতে পারেননি। বরং বারবার চেষ্টা করে গেছেন, সবকিছু পার করে থেকে যেতে। এমনকি তিনি নানা জায়গায় নিজেকে 'বিবাহিত' বলেও পরিচয় দিতেন। রাহুল বলেছেন, 'শেষের দিকে খুব বেশি যোগাযোগ রাখত না। শুনলাম দিল্লিতে গিয়ে একসঙ্গে থাকছে। সেখানে ওদের সকলে বিবাহিত দম্পতি বলেই জানত। কিন্তু আমরা জানতাম, শ্রদ্ধাকে এখনও মারধর করে আফতাব।'
অন্যদিকে, দিল্লির আদালত পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে, ধৃত আফতাবের বিরুদ্ধে কোনও জোর-জবরদস্তি নয়, তার গায়ে হাত তোলা যাবে না। তথ্য জানার জন্য কোনওরকম 'থার্ড ডিগ্রি' ব্যবহার করতে পারবে না পুলিশ। তবে তার নার্কো টেস্ট করতে হবে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যেই। এই টেস্টের জন্য আফতাবের অনুমতিও মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাশাপাশি, মেয়ের হত্যাকাণ্ড নিয়ে শ্রদ্ধার বাবা বিকাশ ওয়াকার দাবি করেছেন, শুধু আফতাব নয়, তার পরিবারও শ্রদ্ধার খুনের সঙ্গে যুক্ত। পলাতক সেই পরিবারকে খুঁজছে পুলিশ। আফতাবকে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মিরাকেল! চিকিৎসায় সাড়া ঐন্দ্রিলার, 'অনন্ত শূন্য থেকে ছিটকে ফিরে এল', লিখলেন সব্যসাচী