
শেষ আপডেট: 30 November 2022 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্রদ্ধা ওয়াকারকে খুন করে কুপিয়ে ৩৫ টুকরো করার ঠিক পরেপরেই এক তরুণীর (Psychiatrist) সঙ্গে ডেটিং করতে শুরু করেছিল আফতাব (Aftab)। ফ্রিজে শ্রদ্ধার দেহাংশ ভরা থাকা অবস্থায় বাড়িতেও নিয়ে এসেছিল তাঁকে। এর পরে আসল ঘটনা জানতে পেরে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত পেশায় সাইকিয়াট্রিস্ট ওই তরুণী। কার্যত শকে চলে গেছেন তিনি। কাউন্সেলিং চলছে তাঁর। দিল্লি পুলিশ তাঁকে জেরা করে জানতে পেরেছে, আফতাবকে নিয়ে কোনও সন্দেহ দূরের কথা, বরং তাকে খুবই 'সাধারণ' ও 'যত্নবান' ছেলে (Normal and Caring) বলে মনে হয়েছিল তাঁর!
মানসিক অসুখের চিকিৎসা করাই তাঁর পেশা। মানুষের মনের গভীর জটিলতার খবর রাখেন তিনি। অথচ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি, যার সঙ্গে ডেট করছেন, সময় কাটাচ্ছেন, ঘরে গিয়ে যৌনতায় মাতছেন, সেই ছেলেটিই দু'বছর ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেছে গার্লফ্রেন্ডকে এবং দু'দিন আগেই নৃশংস ভাবে মেরে কুপিয়েছে তাঁকে!
ওই সাইকিয়াট্রিস্ট পুলিশকে বলেছেন, 'একটা বারের জন্যও ওর থেকে কোনও রকম ভয় পাইনি আমি।' এছাড়াও আফতাব সম্পর্কে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি পুলিশকে দিয়েছেন।
জানা গেছে, ১২ অক্টোবর আফতাব তাঁকে একটি খুব সুন্দর আংটি উপহার দিয়েছিল। আংটিটি শ্রদ্ধাকে কোপানোর সময়ে তাঁর হাত থেকে খুলেছিল আফতাব। সেই আংটিই খুব খুশি মনে পরে নেন ওই সাইকিয়াট্রিস্ট। ওই সাইকিয়াট্রিস্টকে একাধিক পারফিউমও উপহার দিয়েছিল আফতাব। তার মুম্বইয়ের বাড়িঘর, পরিবার নিয়েও গল্পগাছা করত সাইকিয়াট্রিস্টের সঙ্গে।
সাইকিয়াট্রিস্ট আরও জানিয়েছেন, আফতাব খুব সিগারেট খেত। নিজেই কাগজ রোল করে তামাক ভরে সিগারেট বানাত সে, আবার সিগারেট ছাড়ার কথাও বলত। নানারকম খাবার খেতেও ভালবাসত সে। নানা রেস্তরাঁ থেকে পছন্দের খাবারদাবার অর্ডার করত নিয়মিত।
এই সব মিলিয়ে আফতাবকে খুবই সাধারণ, যত্নবান এবং নিরীহ ধরনের ছেলে বলেই মনে হয়েছিল সাইকিয়াট্রিস্টের। অল্প সময়ের ডেটিংয়েই অবাধে মেলামেশা শুরু করেছিলেন তিনি। সে সময়ে দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি, কয়েকদিন পরেই সামনে আসবে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে তাঁর নতুন বয়ফ্রেন্ড!
পুলিশ ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছে, ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত নতুন নতুন নারীসঙ্গী খুঁজত আফতাব। শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্পর্কে থাকার সময়েও বহু মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছিল সে। শ্রদ্ধাকে খুন করার পরেও এই স্বভাব এতটুকু বদলায়নি। এই সাইকিয়াট্রিস্ট ছাড়াও সে একাধিক মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা করেছে শ্রদ্ধাকে খুন করার কয়েক দিন পর থেকেই। আফতাবের হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, গুগল পে, পেটিএম-- সমস্ত অ্যাকাউন্টের ডিটেলস নিয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
হ্যাঁ, আমি মেরেছি শ্রদ্ধাকে, তাও কোনও আপশোস নেই: পলিগ্রাফ টেস্টে সপাট স্বীকারোক্তি আফতাবের