
শেষ আপডেট: 22 May 2023 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সবচেয়ে বিতর্কিত আইন হল আফস্পা। দীর্ঘদিন ধরে এই আইন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মানুষ। মোদী সরকার বারবার সেনার বিশেষ ক্ষমতা আইন, আফস্পা বা আর্ম ফোর্সেস স্পেশ্যাল পাওয়ার অ্যাক্ট (AFSPA) প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়ে আসছে। নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ, গত একবছরে এই নিয়ে বেশ কয়েকবার মুখ খুলেছিলেন। এতদিন পর সেটাই সত্যিই হতে চলেছে! অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, অচিরেই এই আইন প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে (AFSPA withdraw from entire Assam)।
সোমবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী (CM Himanta Sarma) জানিয়েছেন, 'চলতি বছরের নভেম্বর মাসের মধ্যেই সমগ্র রাজ্য থেকে আফস্পা তুলে নেওয়া হতে পারে। তার বদলে অসম পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হবে।' বর্তমানে অসমের ৮ জেলা এই আফস্পা আইনের অন্তর্ভূক্ত। সশস্ত্র সেনাবাহিনী এই এলাকায় বিনা বাধায় যে কোনও কার্যকলাপ করতে পারে। সেই বাহিনী তুলে নেওয়া হবে বলে জানান হিমন্ত।
তিনি বলেন, আফস্পা আইন প্রত্যাহার করে পুলিশের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে অসম পুলিশের কর্মীদের অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
আফস্পা বা সেনার বিশেষ আইন নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই ব্রিটিশের তৈরি এই আইন বলবৎ হয়েছিল উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে। ১৯৯০ সালে এই আইন অসমের কিছু জেলায় বলবৎ করা হয়। তারপর থেকে প্রতি ৬ মাস অন্তর রাজ্যে এই আইনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আফস্পা আইনে সেনাকে পুলিশ বাহিনীর বেশ কিছু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পুলিশের অতিরিক্ত ক্ষমতাও সেনাকে দেওয়া হয়েছে। যেমন তারা সন্দেহজনক যেকোনও ব্যক্তিকে আটক জেরা করতে পারে। এর জন্য কোনও ওয়ারেন্টের প্রয়োজন নেই। এছাড়া উগ্রপন্থী সন্দেহে গুলি চালোনার ক্ষেত্রেও পুলিশের তুলনায় সেনার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি কম। পুলিশ দিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মোকাবিলা সম্ভব নয় বলেই সেনা বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু এই আইন নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। সমালোচনাও হয়েছে।
শববাহী গাড়ি না থাকলে বডি ছাড়া যাবে না, হাসপাতালগুলিকে কড়া নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতরের