দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্লেন তখন মাঝ আকাশে। হঠাৎই যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখা যায় বিমানে থাকা এক আফগান মহিলাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যায়। প্রসব যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠছিল ওই মহিলা। তড়িঘড়ি ওই মার্কিন বিমানকে জার্মানির এক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। সেখানেই জন্ম হয় শিশু কন্যার। ভবিষ্যতের আফগানি। তবে তার কাছে ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। ঘরছাড়া সে।
এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল মার্কিন বায়ুসেনার এক বিমানের যাত্রীরা। শনিবারের এই ঘটনার কথা এদিন টুইট করে জানানো হয় মার্কিন বায়ুসেনার তরফে। আর মুহূর্তে সেই টুইট ভাইরাল হয়ে যায়। টুইটে এই পুরো ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়।
https://twitter.com/AirMobilityCmd/status/1429221286341980163
নিজের গর্ভের সন্তানকে তালিবানি শক্তির থেকে বাঁচাতে মার্কিন বিমানেই পাড়ি দেন ওই আফগান মহিলা। আগের অভিজ্ঞতার ওপর ভর করেই দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সম্পূর্ণ একা। বিমানবন্দরে ভিড়ে হারিয়ে ফেলেন পরিবারকে। তবে অপেক্ষা না উঠে পড়েন সি-১৭ মার্কিন বিমানে। মাঝ আকাশেই প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন তিনি। নজরে আসে বিমানে থাকা সকলের।
অবশেষে জার্মানির মাটিতে জন্ম হল তাঁর সন্তানের। জার্মানির রেমস্টেন বেস গ্রাউন্ডে বিমান নামার পরেই বায়ুসেনার স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতায় দ্রুত ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই জন্ম হয় শিশু কন্যার। দেশের এই অচলাবস্থার মধ্যেই পৃথিবীর বুকে জন্ম নিল সে।
তালিবানি শাসনের চিত্রের সঙ্গে আগেই পরিচিত আফগানরা। ১৯৯৬-২০০১ সাল ছিল আফগানদের কাছে অভিশপ্ত। বিশেষত, মহিলা ও সংখ্যালঘুদের কাছে তালিবানি অত্যাচার অজানা নয়। তাই ফের তালিবান ক্ষমতায় আসায় দেশ ছেড়ে পালাতে ব্যস্ত আফগানরা।
আফগানিস্তান ও আফগানদের খবরের দিকে চোখ গোটা বিশ্বের। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই সব ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে মুহূর্তে। তার মধ্যেই রবিবার আমেরিকার বায়ুসেনার তরফে করা এই টুইট ঘিরে দিনভর চর্চা চলল।