দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাস চারেক আগে থেকে কাজ শুরু হয়েছিল। অবশেষে সাফল্যের দোরগোড়ায়। করোনাভাইরাস রোগীদের জন্য সুলভে কার্যকর এক ধরনের ভেন্টিলেটর তৈরি করছে কয়েকজন আফগান কিশোরী। ‘অল গার্ল রোবটিক্স টিম’ নামের এই কিশোরী দলের আবিষ্কার এবার বাজারে পৌঁছনোর জন্য প্রস্তুত। গাড়ির যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ভেন্টিলেটরটি তৈরি করেছে তারা। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের যে সব ভেন্টিলেটর পাওয়া যাচ্ছে, তার চেয়ে তাদের তৈরি ডিভাইসের দাম অনেক কম হবে বলেই দাবি করছে তারা।
এই প্রথম নয়, এর আগেও ২০১৭ সালে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় এই কিশোরীরা বিশেষ পুরস্কার জিতে খবরের শিরোনাম হয়েছিল। এবার তারা মহামারীর সময়ে ভেন্টিলেটরের মতো অতি প্রয়োজনীয় ডিভাইসটি বানানো নিয়ে গবেষণা শুরু করে।

কারণ তথ্য বলছে, ৩ কোটি ৮৯ লাখ জনসংখ্যার আফগানিস্তানে মাত্র ৪০০টির মতো ভেন্টিলেটর রয়েছে। সরকারি হিসেবে, এখন পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত প্রায় ৩৬ হাজার জন এবং মারা গেছেন প্রায় ১২০০ জন। তবে আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এমনিতেই যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা অতি দুর্বল। এই মহামারী পরিস্থিতিতে তা রীতিমতো ভেঙে পড়ছে বলেই খবর।
আফগানিস্তানের পশ্চিম প্রদেশ হেরাটের বাসিন্দা এই টিমের সদস্যরা। এই হেরাটেই এ দেশের প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। চিন থেকে সংকেরমণ শুরু হওয়ার পরে তা ইরানে বড় মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ার কারণে আফগানিস্তানের হেরাট অঞ্চলটিও করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়।

'অল গার্ল রোবটিক্স টিম'-এর ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি এই কিশোরীরা একটি টয়োটা করোলা গাড়ির মোটর এবং হন্ডা বাইকের একটি চেইন ড্রাইভ দিয়ে ভেন্টিলেটরের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ডিজাইনে এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির দক্ষ অধ্যাপকদের মূল্যবান পরামর্শ মেনে এই কাজটি করেছে তারা।
তারা বলছে, আদর্শ ভেন্টিলেটর পাওয়া না গেলে তাদের তৈরি ভেন্টিলেটর জরুরি পরিস্থিতিতে শ্বাসকষ্টের রোগীকে সাময়িক স্বস্তি দেবে। এটি বহন করাও অত্যন্ত সহজ, ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারিতে চলবে।

এই আফগান কিশোরী দলের প্রধান সোমায়া ফারুকি বলেন, "এই সময়ে চিকিৎসক-নার্সরা আমাদের নায়ক। তাঁরা প্রবল লড়াই করছেন দেশকে সুস্থ করতে। আমরা ওঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এই প্রচেষ্টা দিয়ে একটি জীবন বাঁচাতে পারলেও তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
নোভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর থেকে সারা বিশ্বজুড়েই ভেন্টিলেটরের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই যন্ত্রটির যা দাম, তা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষেই বহন করা সম্ভব নয়। এমন অবস্থায় এই কিশোরীরা বলছে, তাদের এই ডিভাইস কেনা যাবে ৭০০ ডলারেরও কম দামে অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ৫০ হাজার টাকা মতো।
এখন এই প্রোডাক্ট 'ফিনিশিং টাচ'-এর পর্যায়ে আছে। সব ঠিক থাকলে শীঘ্রই বাজারে মিলবে সুলভ ভেন্টিলেটরটি। অপেক্ষা কেবল সরকারি ছাড়পত্রের। তা মিললেই তাদের তৈরি করা ৮০০টি ভেন্টিলেটর কিনতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানে নারীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৩০ শতাংশেরও কম। এমন পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠেও আফগান নারীদের এই প্রযুক্তিগত ভাবে এগিয়ে যাওয়া একরকম অতুলনীয় ব্যাপার বলেই প্রশংসিত হয়েছে বিশ্বের দরবারে।