দ্য ওয়াল ব্যুরো: দত্তক বিধি হবে আরও সহজ। আইনের জটিলতার মধ্যে না গিয়ে অনেক সহজেই শিশু দত্তক নিতে পারবেন চল্লিশোর্ধ্ব সিঙ্গল মাদাররা। ২০১৭ সালে দত্তক-বিধিতে প্রয়োজনীয় বদল আনতে উদ্যোগী হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। বর্তমানে সেই প্রস্তাবকেই বাস্তবায়িত করার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা সেন্ট্রাল অ্যাডপশন রিসোর্স অথরিটি (সিএআরএ)।
দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে একটা পদ্ধতিগত জটিলতা আছে। যার কারণে গোটা প্রক্রিয়াই অনেক লম্বা এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলে । কেন্দ্রীয় সংস্থা সিএআরএ-র সিইও দীপক কুমার বলছেন, সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার পরেও শিশু ও তার নতুন অভিভাবকদের মধ্যে প্রথামিক সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা হয়। প্রথমত যদি বাবা-মার শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা চলে, তাঁরা আর্থিক দিক থেকে যোগ্য কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হয়। দত্তকের আগে শিশুটিকে রাখা হয় অ্যাডপশন রিসোর্স অথরিটির হোমে। সেখানেও মাস দুয়েক অপেক্ষা করা হয়, বাবা-মায়ের মত পরিবর্তন হচ্ছে কিনা। দত্তকের প্রশ্ন তার পরে। এত দীর্ঘ সময়ের মধ্যে অনেকেই নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন।
সিএআরএ-র সিইও বলছেন, আর্থিকভাবে সাবলম্বী সিঙ্গল মাদাররা এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে রাজি হন না। তাই তাঁদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই বিভিন্ন সরকারি হোম বা অ্যাডপশন এজেন্সি গুলিকে এই প্রক্রিয়ার সময় আরও কমিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে। সাধারণত দত্তকের জন্য আবেদন করার পর থেকে গোটা প্রক্রিয়া চলতে বছর দুয়েক সময় লেগে যায়। এই সময় আর ও ছ’মাস কমিয়ে দেড় বছর করার কথা ভাবা হচ্ছে। বিশেষত সিঙ্গল মাদারদের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র থেকে আর্থিক যোগ্যতা, সবকিছুই খুঁটিয়ে দেখা হয়। সে ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি আরও লম্বা। নতুন নির্দেশিকায় সিঙ্গল মাদারদের জন্য এই পদ্ধতিকে আরও সহজ করার কথাও ভাবা হচ্ছে।
নতুন নির্দেশিকায় যে বদল আনা হবে সেটা ২০১৬ সালের জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টের ধারা মেনেই হবে বলে জানানো হয়েছে সেন্ট্রাল অ্যাডপশন রিসোর্স অথরিটির তরফে। সিইও দীপক কুমারের কথায়, ‘‘দত্তক নেওয়া শিশুদের নিরাপত্তা ও চাহিদার কথা যেমন মাথায় রাখা হবে, তেমনি অভিভাবকের আগ্রহের দিকটাও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’’
সিএআরএ-র রিপোর্ট বলছে, , ২০১৫ থেকে ২০১৮-র মধ্যে ১১ হাজার ৬৪৯ জন পরিত্যক্ত বা অনাথ শিশু দত্তক নেওয়া হয়েছে দেশে। এদের মধ্যে মেয়ে ৬৯৬২ জন ও ছেলে ৪৬৮৭ জন। সমাজের বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে সিঙ্গল মাদারদের ক্ষেত্রেও সন্তান দত্তক নেওয়ার আগ্রহ বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে একলা মায়েদের ক্ষেত্রে ২০১৭-১৮ সালে শিশু দত্তক নেওয়ার আবেদনপত্র জমা পড়েছিল ৪৯৫টি, সেখান থেকে ২০১৮-১৯ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৯টি।
ইউনিসেফের হিসেব বলছে, ২০১১ সালে ভারতে অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশুর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৯৬ লক্ষ। নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থা চাইল্ডলাইন ইন্ডিয়ার হিসেবে ২০১৭ সালে সংখ্যাটা ছিল ৩ কোটি। সিএআরএ জানাচ্ছে, ২০১৫-১৮-র মধ্যে বিদেশে দত্তক নেওয়া হয়েছে ২৩১০ জন শিশু। তাদের মধ্যে মেয়ে ১৫৯৪ জন। অর্থাৎ ৬৯ শতাংশ। কন্যাসন্তানের প্রতি সমাজের বিরূপ মনোভাব যে বদলাচ্ছে, এটা তারই প্রতিফলন। কাজেই দত্তক বিধিতে প্রয়োজনীয় বদল এলে অনাথ ও পরিত্যক্ত শিশুদের সংখ্যা আরও কমে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।