
নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 1 April 2025 12:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাথরপ্রতিমায় (Patharpratima Blast) ভয়াবহ বিস্ফোরণের নেপথ্যে প্রশাসনের উদাসীনতা এবং পুলিশের (Police) গড়িমসির দিকেই আঙুল তুলছেন এলাকাবাসী। ইতিমধ্যেই দু'তরফের ভূমিকা নিয়ে চাপা অসন্তোষও দেখা দিয়েছে ঢোলাহাট এলাকায় (Dholahat)।
সোমবারের দুর্ঘটনার পর দমকল এলাকায় পৌঁছোনোর আগে আগুন নেভাতে তৎপর হন স্থানীয়রা। আগুনের ভয়াবহতা এমনই ছিল যে বাড়ির ভিতরে থাকা মানুষদের বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। এত দিন ধরে বাড়িতে অবৈধ বাজি বানানো হচ্ছে, অথচ পুলিশ-প্রশাসন টের পেল না? দ্য ওয়াল স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে, এলাকাবাসীরা এর আগে রাজ্যে যখন একের পর এক বাজি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে, তখনই বণিক পরিবারকে বাড়িতে মজুত বাজি সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন।
তাতেও কাজ না হলে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ করা হয়। কিন্তু তাঁরাও এ ব্যাপারে খুব একটা উচ্চবাচ্য করেনি। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, ওই বাড়িতে বাজির ব্যবসার জন্য বাইরেরর একাধিক জায়গা থেকে কারিগররা আসতেন।
এদিকে বাজি কারখানার লাইসেন্স থাকার পাল্টা দাবি করেছেন পাথরপ্রতিমার তৃণমূল বিধায়ক সমীরকুমার জানা। কিন্তু কথা হচ্ছে, বাজি তৈরির অনুমতি থাকলেও বাড়িতে বেআইনি বাজি মজুত রাখার লাইসেন্স ছিল কি?
ইতিমধ্যেই ১১ সদস্যের পরিবারের আট জন মারা গিয়েছেন। যাঁদের মধ্যে রয়েছে চার শিশুও। এরপরও ঘটনাস্থলের যা পরিস্থিতি তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা নিয়েও। এ কথা বলার কারণ, দ্য ওয়াল চাক্ষুষ করেছে, এলাকার এক নয় একাধিক জায়গায় এখনও বাজি মজুত করে রাখা হয়েছে। শেষ মুহূর্তে বাজি বা বোমা সরানোর জন্য স্থানীয় একটি মাঠে বাজি তৈরির সরঞ্জাম ফেলে রাখা হয়েছে। যা দেখতে স্থানীয়রা ভিড় করেছেন।
এখানেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন যে, এখনও কেন তারা বোমা-বাজি নিষ্ক্রিয় করতে পারল না। শুধু তাই নয়, এলাকার ছোটরাও উৎসাহী হয়ে মাঠে পড়ে থাকা বাজি দেখতে আসছে। এখনও অবধি কোনও রকম নিরাপত্তা বলয়ে সেই মাঠ ঘিরে রাখেনি প্রশাসন। আট-আট জনের প্রাণ চলে যাওয়ার পরও কেন এখনও এত গড়িমসি, তা নিয়েই ধিকিধিকি ক্ষোভ দেখা দিয়েছে ঢোলাহাটের মানুষদের মধ্যে।