
শেষ আপডেট: 14 August 2020 18:30
হরিয়ানার বাসিন্দা আদিত্য প্রকাশ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবা পেশায় শিক্ষক ছিলেন। আদিত্য জানিয়েছেন, তাঁর পরিবার চাইতেন যে তিনি ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবেন। আর তাঁর লক্ষ্য ছিল ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়ে সরকারি উচ্চপদে চাকরি। এই দুই ইচ্ছাই পূরণ হয়েছে আদিত্যর। ডাক্তারি পাশ করেছেন নাম করা মেডিক্যাল কলেজ থেকে। প্র্যাকটিস করার সময়েই ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন।
https://twitter.com/IRSAdityaB/status/1256570877568679937
আদিত্য বলেছেন, তাঁর পরিবারের আপত্তি ছিল। তবে সকলে তাঁর পাশেই ছিলেন। ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য একাই চলে যান দিল্লিতে। একটি ঘর ভাড়া করে থেকে সেখানেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেন। আদিত্যর কথায়, একটি স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে প্র্যাকটিস করে মাসে পাঁচ হাজার টাকা আয় হত। তাই দিয়ে কোনরকমে দিন চালাতে হত। কোনও নামী ইনস্টিটিউটে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারেননি। নিজেই পড়াশোনা করে ২৫০ র্যাঙ্ক করেছিলেন। সেই সময় তিনি বুঝেছিলেন, অভাবী ছাত্রদের কতটা লড়াই করতে হয়। তাই বিনামূল্যে ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
জার্নিটা শুরু হয় সেই থেকেই। আদিত্য বলেছেন সপ্তাহান্তে তিনি প্রত্যন্ত এলাকার গরিব বাচ্চাদের পড়াশোনা করান। ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তাঁর আলাদা সেন্টারও আছে। সেখানে গরিব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একজনের কাছ থেকেও পয়সা নেন না আদিত্য। মানসিক ভারসাম্যহীন, শারীরিকভাবে অক্ষম ছাত্রছাত্রীদেরও ক্লাস করার তিনি। বলেছেন, লকডাউনের সময় অনলাইনে ক্লাসও শুরু করেছেন। যেসব অভাবী ছেলেমেয়েরা প্রাইভেট টিউশনের সুযোগ পান না, তাঁদের জন্যই এই ব্যবস্থা। ইন্টারনেটের খরচও তিনিই দেন।
ফরিদাবাদের নানা জায়গায় ফুড কোর্ট খুলেছেন আদিত্য। পঞ্চাশেরও বেশি কমিউনিটি কিচেন চালান তিনি। ‘সোশ্যাল কেয়ার নেটওয়ার্ক’ নামে একটি গ্রুপও তৈরি করেছেন। আদিত্যর কথায়, “একটি শিশুও যেন খালি পেটে না থাকে। অনাহারে মরতে দেব না কাওকে। খাবার, মাথা গোঁজার ঠাঁই আমিই দেব। যতটা পারব অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়াব।”
লকডাউনের সময় দিনে দশ থেকে পনেরো হাজার মিল পাঠিয়েছেন প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে। আদিত্য বলেছেন, বস্তি এলাকাগুলিতে তাঁর টিম খাবার, জামাকাপড়, ওষুধ পৌঁছে দিয়েছে। কাঁচা আনাজ, চাল-ডালও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। লকডাউনে বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। ভিন রাজ্য থেকে ফিরে সংসার চালাতে নাভিশ্বাস উঠছে গরিব মানুষগুলোর। সেইসব দুঃস্থ পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি ও তাঁর টিম। শুধু খাবার নয়, তাঁদের চিকিৎসার দায়িত্বও তাঁর।
আদিত্য বলেছেন, তাঁর এলাকাতেই ১৯০টি বাচ্চা আছে যাদের পরিবার লকডাউনে কাজ হারিয়েছে। এই বাচ্চাদের পড়াশোনা শেখানো, মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তাছাড়াও মানসিক ভারসাম্যহীন শিশুদের সমাজের মূলস্রোতে ফেরানোর দায়িত্বও নিয়েছেন আদিত্য। বলেছেন, “খিদের পেটে বাচ্চাগুলো যখন খাবার মুখে তোলে তখন একটা স্বর্গীয় অনুভূতি নয়। এভাবেই ওদের পাশে থাকার চেষ্টা করব। আমার জীবনের লক্ষ্য এখন এটাই।”