দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বৃহস্পতিবার হাথরাসে মৃত তরুণীর বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের অপর নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। সেদিন তাঁরা দিল্লির সীমানা পেরিয়ে উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় ঢোকা মাত্র পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। শনিবার ফের তাঁরা হাথরাসে যেতে চেষ্টা করেন। এদিন দিল্লি-নয়ডা পথের টোল প্লাজা পেরিয়ে গিয়েছেন রাহুল-প্রিয়ঙ্কা। তাঁদের সঙ্গে আছেন কংগ্রেসের অপর দুই প্রবীণ নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরি এবং কে সি বেণুগোপাল। পুলিশ তাঁদের আটকায়নি। বিকাল অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী, তাঁরা হাথরাসের পথে যাচ্ছেন।
https://twitter.com/ANI/status/1312347958545768449
রাজ্য সরকার অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, রাহুলদের মৃত তরুণীর গ্রামে যেতে দেওয়া হবে না। কারণ সেখানে কোনও বড় জমায়েতের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। হাথরাসে গণধর্ষণের ঘটনা নিয়ে 'রাজনীতি করার জন্য' এদিন রাহুলদের সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেত্রী তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে এক দলিত তরুণীকে চার উচ্চবর্ণের ব্যক্তি ধর্ষণ করে। ধর্ষিতার পরিবারের দাবি, তাঁরা দলিত হওয়ার জন্যই পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছিল। গণধর্ষণের পরে তরুণীর ওপরে বীভৎস অত্যাচার করে অপরাধীরা। তাঁর শরীরে নানা জায়গায় হাড় ভেঙে যায়। সারা শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। ঘাড়ে গভীর ক্ষত থাকার জন্য তাঁর নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পুলিশ জানায়, তরুণীর জিভেও ক্ষত ছিল। চার অপরাধী যখন তাঁকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি নিজের জিভ কামড়ে ফেলেন।
অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জোর করে তাঁর দেহ আত্মীয়দের থেকে কেড়ে নিয়ে যায়। পরিবারকে বাড়িতে আটকে রাখা হয়। কয়েকজন পুলিশকর্মী মিলে রাত আড়াইটেয় তরুণীর দেহ পুড়িয়ে দেন।
বৃহস্পতিবার রাহুলরা হাথরাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর আগেই জানা যায়, উত্তরপ্রদেশ সীমান্ত ব্যারিকেড করে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। হাথরাসের আশপাশেও জারি হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। রাজ্য সরকার জানায়, করোনা অতিমহামারী রুখতেই ওই সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরে রাজ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। অন্যদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা যাতে মৃত তরুণীর বাড়িতে না যেতে পারেন, সেজন্যই কড়াকড়ি করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।
শুক্রবার জানা যায়, মহামারী আইনে গৌতম বুদ্ধ নগরে ইকোটেক ওয়ান থানায় মামলা করা হয়েছে রাহুল ও প্রিয়ঙ্কার বিরুদ্ধে। তাঁদের সঙ্গে প্রায় দেড়শ জন কংগ্রেস কর্মী ছিলেন। তাঁদের নামও এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে।