
শেষ আপডেট: 10 August 2023 17:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৪ সালের ঘটনা। তখন সংসদের অধিবেশন চলছে। লোকসভা থেকে বেরিয়ে লবি দিয়ে বেরোচ্ছিলেন অধীর চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী ঠিক সেই সময়েই লোকসভায় ঢুকতে যাচ্ছিলেন। কংগ্রেস নেতার হাত চেপে ধরে মোদী, ‘কী অধীর! কেমন আছো? গুজরাত কেমন ঘুরলে বলো!” অধীর চৌধুরী জবাবে বলেন, বহুত আচ্ছা। কচ্ছ বেশ ভাল লাগল (Adhir Chowdhury Narendra Modi)।
পারস্পরিক ব্যক্তি সম্পর্ক বোঝার জন্য এই উদাহরণও হয়তো যথেষ্ট নয়। উনিশের লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির এক নেতা একদিন রাতে অধীর চৌধুরীর বাড়ি পৌঁছে যান। নৈশভোজ করেন। তার পর অধীরকে বিজেপিতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। ওই নেতা বলেন, চলুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আপনাকে নিয়ে যাব! অধীর তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কংগ্রেস ছাড়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। পরে ঘনিষ্ঠ বৃত্তে বলেন, মসজিদে যাওয়ার জন্য মৌলানা ধরতে হবে নাকি! অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে কোনও মাধ্যম তাঁর লাগবে নাকি!
এদিন অনাস্থা বিতর্কে অধীর চৌধুরী বলেন, “আমরা ভাবতাম নীরব মোদী দেশের সম্পদ চুরি করে পালিয়ে গিয়েছেন। ক্যারিবিয়ান উপকূলে কোনও দীপপুঞ্জে বসে মস্তি করছেন। কিন্তু সেটা আমাদের ভুল ভাবনা ছিল। নীরব মোদী বহালতবিয়তে এদেশে রয়েছেন। মণিপুর প্রশ্নে নরেন্দ্র মোদীই নীরব মোদী হয়ে গিয়েছেন।” নাম না করে প্রধানমন্ত্রীকে এদিন অন্ধ রাজাও বলেন অধীর। সেই সঙ্গে বলেন, চাঁদ থেকে কুনো জঙ্গলের চিতা নিয়ে মুখ খোলার সময় রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর, কিন্তু মণিপুর নিয়ে ওনার কথা বলার সময় নেই।
অধীর যখন এই কথাগুলো বলছিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী তাঁর দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। আর অমিত শাহ স্পিকারের দিকে তাকিয়ে বলেন, এরকম ব্যক্তি আক্রমণ চলতে পারে না। জবাবে অধীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী চুপ করে শুনছেন, আপনার সমস্যা কেন হচ্ছে!
অধীরের বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর জবাবি ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাঁর গোটা বক্তৃতায় অধীরকে সামনে রেখে বার বার খোঁচা দেওয়ার চেষ্টা করেন সনিয়া-রাহুল তথা ইন্ডিয়া জোটকে। মোদী বলেন, “অধীরবাবুর কী হাল হয়েছে, ওঁর দল ওঁকেই বলতে দেয়নি! উনি লোকসভার নেতা, অথচ অনাস্থা বিতর্কে ওঁকে বলতেই দেওয়া হচ্ছিস না। কংগ্রেসের জন্য যে সময় বরাদ্দ হয়েছিল, তার মধ্যে ওঁর ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। কংগ্রেস ওঁকে অপদস্ত করেছে”। এর পর স্পিকার ওম বিড়লার দিকে তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনি মহানুভব তাই কিছু অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করেছেন অধীরবাবুকে।”
এ কথা শেষ করেই অধীর চৌধুরীর দিকে প্রধানমন্ত্রী টিপ্পনি করে বলেন, “গুড়কে কীভাবে গোবর বানাতে হয়, ওঁর চেয়ে ভাল কেউ জানে না। তবে আমার সবচেয়ে খারাপ লাগছে যে অধীর চৌধুরীকে কোণঠাসা করা হচ্ছে। কে জানে কলকাতা থেকে হয়তো ফোন এসেছিল!” মোদীর কথায়, “এর আগেও একবার ফ্লোর লিডারের পদ থেকে অধীরবাবুকে সরিয়ে পাঞ্জাবের সাংসদ বিট্টুকে বসানো হয়েছিল। ওঁর প্রতি আমাদের সহানুভূতি রয়েছে।"
পর্যবেক্ষকদের মতে, অধীর চৌধুরী মোদীকে যেভাবে কটাক্ষ করেছেন, তার পর প্রধানমন্ত্রী যে জবাব দেবেন তা অনিবার্যই ছিল। মোদী কৌশলে গুড় গোবর বলে অধীরের আক্রমণের ধার ভোঁতা করে দিতে চেয়েছেন। সেই সঙ্গে তাঁকে সামনে রেখে সনিয়া-রাহুলকে খোঁচা দিতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন ইন্ডিয়া জোটকে কটাক্ষ করতে গিয়ে বাংলা ও অধীরের প্রসঙ্গ আনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখানে ওঁরা হাত মিলিয়েছে। কিন্তু রাজ্যে কী হবে? ওখানে তো তৃণমূল আর বামেরা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ১৯৯১ সালে বিধানসভা ভোটে কমিউনিস্টরা অধীর চৌধুরীর সঙ্গে কী করেছিলেন মনে আছে? সে তো ইতিহাস।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার সময়ে এদিন অধীর চৌধুরীও বার বার বাধা দেন। শেষে স্পিকার তাঁকে সাসপেন্ড করেন (Adhir Chowdhury suspended)। সংসদে এবারের অধিবেশন চলবে ১১ অগস্ট অর্থাৎ শুক্রবার পর্যন্ত। অর্থাৎ একদিনের জন্য লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হলেন কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষের নেতা।
অধীর সাসপেন্ড লোকসভায়! ভোটাভুটিতে খারিজ বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব