
অধীর চৌধুরী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 8 June 2024 14:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের পর শনিবার দিল্লিতে বসতে চলেছে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীরঞ্জন চৌধুরীও।
বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে নিজের পরাজয় সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এবার সরাসরি তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ আনলেন অধীর।
ভোটের মুখে রাম নবমীর দিন বহরমপুরে বিক্ষিপ্তভাবে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। ওই প্রসঙ্গ টেনে অধীরের অভিযোগ, "তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলেছেন এবং উনি সফলও হয়েছেন। যা আমার পরাজয়ের অন্যতম কারণ।"
এবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী, প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের কাছে প্রায় ৮৫ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন বহরমপুরের পাঁচবারের সাংসদ অধীর চৌধুরী।
নিজের অভিযোগের সপক্ষে অধীরের ব্যাখ্যা, "মমতা হিন্দু ভোট বিভাজন করে দেওয়ায় বিজেপির ভোট এই কেন্দ্রে গতবারের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আমার ভোট কমে গিয়েছে।"
এবারের লোকসভা ভোটের প্রচারে বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়া জোটের তৃতীয় বৃহত্তম দল তৃণমূল। জোটকে ঐক্যবদ্ধ করতে নেত্রীর নির্দেশে ইতিমধ্যে ইন্ডিয়ার বৈঠকে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি শরিক দলের নেতাদের সঙ্গেও আলাদা করে দেখা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন পরিস্থিতিতে মমতার বিরুদ্ধে অধীরের আনা 'সাম্প্রদায়িকতা'র অভিযোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
অধীরের পরাজয়ের পর তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছিল, ২টো আসন ছাড়া হয়েছিল। জোটে থাকলে ২টো আসনেই জয় নিশ্চিত হত। নিজেদের দোষে কংগ্রেস সেই সুযোগ হারাল।
রাজনৈতিক মহলে এই গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল, বহরমপুরে হারের পর কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব সঙ্গে অধীরের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। জল্পনা উড়িয়ে অধীর বলেন, "আমার সঙ্গে দল বা শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও দূরত্ব নেই। পরিকল্পিতভাবে এই গুজব রটানো হয়েছিল।"
প্রসঙ্গত, জোটের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি যে ভরসা করেন না, তা জানিয়ে অধীর আগে একথাও বলেছিলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভরসা করা যায় না। উনি বিজেপির সঙ্গেও জোটে যেতে পারেন!"