
শেষ আপডেট: 22 February 2023 12:41
এ দেশে কোভিডের ঢেউ আর আসবে না বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি, গলা খুসখুস, জ্বর লেগেই রয়েছে। কারণ সর্দি-কাশির নিরীহ অ্যাডেনোভাইরাস (Adenovirus) এখন করোনার থেকেও বেশি ছোঁয়াচে হয়ে উঠেছে। আরও কিছু ভাইরাস আছে যারা মাথাচাড়া দিয়েছে। এখন যে জ্বর, সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা ইত্যাদি হচ্ছে তার কারণ অ্যাডেনোভাইরাস ছাড়াও রাইনোভাইরাস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস (Viral Infections)। ডাক্তারবাবু বলছেন, এইসব ভাইরাস কোভিডের (সার্স-কভ-২) চেয়েও বেশি তাড়াতাড়ি ছড়াতে পারে। অনেক বেশি ছোঁয়াচে।
তবে সম্প্রতি ভয় ধরিয়েছে অ্যাডেনোভাইরাস। গোটা শহরে রীতিমতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই ভাইরাস। অন্তত ৩০০ জন ভর্তি হাসপাতালে। কলকাতা শহরে ইতিমধ্যেই মারা গেছে দু'টি শিশু। গোটা দেশে এই সংখ্যা ১৫। বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (কমিউনিটি মেডিসিন) ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ অনির্বাণ দলুই জানালেন এই ভাইরাসের বিস্তারিত গতিবিধি।
অ্যাডেনোভাইরাসের এত বাড়বাড়ন্তের কারণ হল খামখেয়ালি আবহাওয়া (weather change sickness)। কখনও ঠান্ডা, আবার কখনও গরম, এত দ্রুত আবহাওয়া বদলাচ্ছে যে রোগজীবাণুরাও আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছে। একটা সময় ঋতু বদলের সময়েই বেশি সর্দি-জ্বর হত। এখন আবহাওয়ার কোনও ঠিকঠিকানাই নেই। আজ গরম, তো কাল ঠান্ডা, পরশু বৃষ্টি। এই বদলটা (Change of Weather) এত ঘনঘন হচ্ছে, জীবাণুরাও পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত বংশবিস্তার করছে। আরও বেশি সংক্রামক ও ছোঁয়াচে হয়ে উঠছে।
:max_bytes(150000):strip_icc()/Health-GettyImages-1398709836-d8a74c453b2a4ef7bb99969d1e070a99.jpg)
এই পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণেই নানা রোগ বাড়ছে। শীতের সময় এমনিতেই সর্দিকাশিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ ভোগেন। একে আমরা ‘কমন কোল্ড’ বলে থাকি। রাইনোভাইরাস নামের এক ধরনের ভাইরাস এর জন্য দায়ী। এই ভাইরাস মূলত নাক, মুখ, চোখ দিয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। শীতের সময়ে এই ভাইরাস মূলত নাসারন্ধ্রে বাসা বেঁধে সংখ্যা বৃদ্ধি করে। ফলে নাক দিয়ে জল পড়ে। নাক বন্ধ হয়ে যায়। কাশি, হাঁচি, মাথাব্যথা ও জ্বর জ্বর ভাব দেখা দেয়। বাচ্চা ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হয় এই রোগে।
ডাক্তারবাবু বলছেন, সর্দি-কাশির অ্যাডেনোভাইরাস করোনার চেয়েও বেশি ছোঁয়াচে হয়ে উঠেছে। গা গরম, ধুম জ্বর, হাত-পায়ে ব্যথা, দুর্বলতা, অনেক সময় শ্বাসকষ্টও ভোগাচ্ছে। টানা জ্বর, বা হাল্কা শ্বাসের সমস্যা হলে হেলাফেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।
বাচ্চাদের উপসর্গ দেখে বোঝা যাচ্ছে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। প্রতি বছরই ঋতু বদলের এই সময়টাতে নানা রকমের রেসপিরেটারি ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ায়। বাচ্চারাই বেশি আক্রান্ত হয়। ইদানীং অ্যাডেনোভাইরাস দ্রুত তার ডালপালা মেলছে। সদ্যোজাত থেকে পাঁচ বছর বয়স অবধি শিশুরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে।
অনেক সময় অ্যাডেনোভাইরাসের কারণে কোভিডের মতোই উপসর্গ দেখা দেয়। তাই অনেকেই কোভিডের সঙ্গে এই ভাইরাল জ্বরকে গুলিয়ে ফেলছেন। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, এই মুহূর্তে করোনা আর তেমনভাবে ছড়াবেও না। তবে এই নতুন ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এই ভাইরাসের সংক্রমণ হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে যায়। ফলে পরিবারে একজনের হল তা থেকে বাকিদেরও রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে বাচ্চা ও বয়স্কদের। তাই অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

ডাঃ অনির্বাণ দলুই বলছেন, এই ভাইরাস ড্রপলেট বা নাক-মুখ থেকে বেরোনো জলকণার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। তাই মাস্ক পরা খুবই জরুরি। কোভিডের কারণে আমাদের মাস্ক পরাতে অভ্যাস হয়ে গেছে, এই অভ্যাস বজায় রাখাই ভাল। তাছাড়া হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার, ভিড় এড়িয়ে চলা এগুলো মানতেই হবে।
করোনা কমে যাওয়ায় মাস্ক পরাও উঠে গেছে। সরকার থেকেও ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাস্ক শুধু করোনা ঠেকায় না, সর্দি-কাশির ভাইরাসও আটকায়। এখনকার সময় যেভাবে শ্বাসের রোগ ও ভাইরাল জ্বর ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে মাস্ক পরা সব থেকে আগে দরকার।

বারেবারে হাত ধুতে হবে। বিশেষ করে বাইরে থেকে এলে হাত ভাল করে ধুয়ে, স্যানিটাইজ করে তবেই ঘরে ঢুকুন।
করোনা কমে গেলেও শেষ হয়ে যায়নি। অ্যাডেনোভাইরাসও বেড়েছে। তাই পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। এই সময়টাতে বেশি ভিড় বা জমায়েতে যাবেন না। বিয়েবাড়ি, সামাজিক অনুষ্ঠানে গেলে চেষ্টা করুন মাস্ক পরার ও স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখার। সম্ভব হলে ভিড় এড়িয়ে চলবেন। বাচ্চাদেরও সামলে রাখবেন।
১৯ বছরের মেয়ে যেন পাঁচের শিশু, বিশ্বে আর মাত্র তিনজনের এমন বিরল অসুখ আছে