
শেষ আপডেট: 20 March 2024 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি-র গ্ৰুপ-সি, গ্ৰুপ-ডি, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগে শূন্যপদের চেয়ে অতিরিক্ত নিয়োগের অভিযোগ ছিলই। সমগ্র নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এবার এই বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সামনে আনল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টে গঠিত হয়েছে বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। টানা সাড়ে তিন মাস ধরে সেখানেই চলছে নিয়োগ মামলার শুনানি। বুধবার ওই টানা শুনানি শেষ হল। তবে রায়দান কবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিন এই প্রসঙ্গে বিশেষ বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “অতিরিক্ত নিয়োগ সরাসরি বাতিল হওয়া উচিত। কারণ, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে ভাল কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন।”
আইনজীবীদের একাংশের মতে, শূন্যপদের চেয়ে অতিরিক্ত নিয়োগের যে ঘটনা ঘটেছে তা বাতিল করা হতে পারে। সম্ভবত, সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন বিচারপতি বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রসিদির বেঞ্চ।
প্রসঙ্গত, নিয়োগ মামলার শুনানিতে গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে বলে গত ১৪ মার্চই ইঙ্গিত দিয়েছিল বিশেষ বেঞ্চ।
এর আগে মামলার শুনানিতে কমিশন আদালতে জানিয়েছিল, তাঁদের কাছে ওএমআর শিট নেই। তবে সিবিআই-এর জমা দেওয়া ওএমআর শিট এবং ইন্টারভিউয়ের নম্বরের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়ন সম্ভব।
এরপরই আদালত জানিয়েছিল, এসএসসি নিজে যদি ওই ওএমআর শিট নিয়ে নিশ্চিত না হতে পারে, তবে আদালত কেমন করে কোনও সিদ্ধান্ত নেবে?
এরপরই বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হয়ে গেলে হয় গোটা নিয়োগ বাতিল করে দেওয়া হবে। নয়তো, নিয়োগের অংশবিশেষ বাতিল করা হবে। বিতর্কিত চাকরিপ্রাপকদের আইনজীবী স্কুল সার্ভিস কমিশনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, কমিশনের কারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তা প্রকাশ্যে আসা দরকার। কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন আছে। এই প্রসঙ্গেই বিচারপতি বসাক বলেন, কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যদি প্রশ্ন থাকে তাহলে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে দেওয়া উচিত।
বুধবার শুনানি শেষ হয়েছে। এখন দেখার এ ব্যাপারে আদালত চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।